মার্কিন রাডার ফাঁকি দিচ্ছে ইরানের সস্তা ড্রোন, পেন্টাগনের হিসাব ওলটপালট

তেহরান, ১৪ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত সামরিক অভিযানের জবাবে ইরানের পাল্টা আঘাতের তীব্রতা ও অভিনব কৌশল পেন্টাগনের পূর্ববর্তী সব হিসাবনিকাশ বদলে দিয়েছে। সংঘাত শুরুর দুই সপ্তাহ পর দেখা যাচ্ছে, আধুনিক প্রযুক্তি, নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্য এবং স্বল্প ব্যয়ের ড্রোনের সমন্বয়ে তেহরান এমন এক রণকৌশল বাস্তবায়ন করছে, যা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে পশ্চিমা সামরিক জোট। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে ইরান আক্রমণাত্মক অবস্থান নেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস সরবরাহ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুতগতিতে বাড়ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও স্বীকার করেছেন যে, ইরানের এই প্রতিক্রিয়া তাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশাল সামরিক বাজেট না থাকলেও ইরান অসম যুদ্ধের কৌশলে সফল হচ্ছে। সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা সেথ ক্রুমম্রিচ জানান, স্বল্প সম্পদ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ইরান। তারা নিয়মিত বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট ছবি ও স্থানীয় গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীর গতিবিধির ওপর নজর রাখছে। ভৌগোলিক নৈকট্য কাজে লাগিয়ে স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করায় মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে না।
পশ্চিমা কর্মকর্তাদের দাবি, অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হলেও মার্কিন দূতাবাস, সামরিক ডাটা সেন্টার এবং তেলগ্যাস শোধনাগারের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সফল আঘাত হেনেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর উপযোগী। কিন্তু ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোনের মতো ধীরগতির ছোট লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে এগুলো ব্যর্থ হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের খুব কাছ দিয়ে উড়ে এসব সস্তা ড্রোন সহজেই রাডার ফাঁকি দিচ্ছে। মস্কোভিত্তিক সামরিক বিশ্লেষক ইউরি লিয়ামিন জানান, যুদ্ধের শুরুতেই মার্কিন রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করে তাদের অন্ধ করে দেওয়ার কৌশল নিয়েছে তেহরান।
স্যাটেলাইট ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, জর্ডান ও কাতারে মার্কিন রাডার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের একটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র আক্রান্ত হয়েছে। কুয়েতের একটি বন্দরে হামলায় অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে আরও এক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত এবং রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে ইরান ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। একই লক্ষ্যবস্তুতে একসঙ্গে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন পাঠানোর কৌশল বা সোয়ার্ম অ্যাটাক এখন তারা নিখুঁতভাবে প্রয়োগ করছে। কাতার ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে তাদের শক্তিশালী গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের প্রমাণও মিলেছে। মার্কিন যৌথ বাহিনীর প্রধান ডেন কেইন পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে বলেন, রণাঙ্গনের বাস্তবতায় তাদের পরিকল্পনা প্রতিনিয়ত পরিবর্তন করতে হচ্ছে। শত্রুর পরিবর্তিত কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদেরও এগোতে হচ্ছে।
এস এম/ ১৪ মার্চ ২০২৬









