এশিয়া

ইরানি হামলার আতঙ্কে ইসরায়েলে মাটির নিচে কাটছে জনজীবন

তেল আবিব, ৭ মার্চ – মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও উত্তেজনার প্রত্যক্ষ প্রভাব এখন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে গভীর সংকট তৈরি করেছে। ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে তেল আবিব, জেরুজালেম এবং হাইফাসহ বিভিন্ন শহরে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে অসংখ্য মানুষ এখন মাটির নিচের বাংকার, গ্যারেজ, পাতাল রেলস্টেশন বা ভূগর্ভস্থ আশ্রয়ে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।

অস্ট্রেলিয়ার নাইন নিউজের একটি প্রামাণ্যচিত্রে তেল আবিবের বর্তমান বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, একটি হাসপাতালের মাটির নিচে দুই তলাবিশিষ্ট বিশেষ স্থাপনা রয়েছে, যেখানে জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। ওই ভূগর্ভস্থ ফ্লোরে ২৫০ জন রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক ব্রিয়ান ফ্রেডম্যান জানান, ইরানের হামলা শুরুর পরপরই রোগীদের সেখানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই নিরাপদ স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকেও সুরক্ষা দিতে সক্ষম।

টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্যমতে, গত বছরের জুনে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার সময়ও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল এবং মানুষ বাংকারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল। নাইন নিউজের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, তেল আবিবের বিভিন্ন ভবনের ভূগর্ভস্থ অংশে মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে অবস্থান করছেন। কেউ বই পড়ছেন, আবার কেউবা বিছানা পেতে বিশ্রাম নিচ্ছেন।

তেল আবিবে আশ্রয় নেওয়া ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক খসরো নেমাতি পরিস্থিতির উন্নতির আশা ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, অ্যালেনবি স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া ইসরায়েল হায়ওম জানান, নিজ বাসভবনে নিরাপদ আশ্রয় না থাকায় তিনি রেলস্টেশনে আসতে বাধ্য হয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ভিডিওতে শহরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ও ভাঙা কাচ পরিষ্কারের দৃশ্য দেখা গেছে।

আনা নেসতেরোভা নামের এক নারী তার পোষা কুকুর নিয়ে পাতাল রেলস্টেশনে আশ্রয় নিয়েছেন। একা থাকার ভয়ে তিনি জনসমাগমপূর্ণ স্টেশনে চলে এসেছেন বলে জানান। লুসেট নামের আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হামলার শঙ্কায় তাকে সারারাত স্টেশনেই কাটাতে হচ্ছে। এছাড়া তেল আবিবের বাসিন্দা সাকেজ জিভি পিবিএস নিউজকে জানান, সাইরেন বাজলেই তার দেড় বছরের সন্তানসহ তাকে ভূগর্ভস্থ শেল্টারে চলে যেতে হয়।

এস এম/ ৭ মার্চ ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language