মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

তেহরান, ৪ মার্চ – ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি বিবদমান সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলার অনুরোধ জানান। বুধবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে দেওয়া এক বক্তব্যে কার্নি মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান যে কানাডা দ্রুত শত্রুতা কমানোর আহ্বান জানাচ্ছে এবং এ লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে প্রস্তুত। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে আন্তর্জাতিক আইন যুদ্ধে জড়িত সকল পক্ষের জন্যই বাধ্যতামূলক।
গত শনিবার ইরানের ওপর হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর মাত্র দুদিন আগে জেনেভায় পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে মার্কিন দূতদের আলোচনা চলছিল। হামলার পরপরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। মঙ্গলবার একটি মার্কিন কনস্যুলেট ও ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। একই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জানায় যে তারা তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক আঘাত হেনেছে। আঞ্চলিক এই যুদ্ধে লেবাননেও প্রভাব বাড়ছে। তেহরানের দীর্ঘদিনের মিত্র সশস্ত্র শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহ খামেনির হত্যার প্রতিশোধে ইসরায়েলের দিকে ড্রোন ও রকেট নিক্ষেপ করেছে।
অস্ট্রেলিয়ায় সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে কার্নি এসব মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত না করে এবং কানাডাসহ মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় ইরানকে নিরস্ত্র করতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ না করার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতি পরোক্ষ সমর্থনও জানান। এই সফরের লক্ষ্য বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আরেক মধ্যম শক্তির অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা। কার্নি উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থার প্রভাব ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। তাই কানাডা বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে।
এস এম/ ৪ মার্চ ২০২৬









