এশিয়া

খেলনা আঁকড়ে মায়ের অভাব ভোলার চেষ্টা, শিশু বানরের ভিডিওতে আবেগের ঝড়

টোকিও, ২৬ ফেব্রুয়ারি – জাপানের ইচিকাওয়া সিটি চিড়িয়াখানার সাত মাস বয়সী একটি শিশু ম্যাকাক বানর সম্প্রতি ইন্টারনেট দুনিয়ায় আবেগের ঝড় তুলেছে। জন্মের পরপরই মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া পাঞ্চ নামের এই ছোট্ট বানরটি একাকীত্ব কাটাতে সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছে একটি খেলনা ওরাংওটাং। আইকিয়া ব্র্যান্ডের ওই পুতুলটি জাপানের বাজারে এখন বেশ দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে।

পাঞ্চ ও তার খেলনার দৃশ্যটি বিশ্বজুড়ে মানুষের হৃদয়ে নাড়া দিলেও এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক রূঢ় বাস্তবতা। প্রাণী অধিকার সংগঠন পেটা পাঞ্চের এই আচরণকে সহজভাবে দেখছে না। তাদের মতে সাধারণ মানুষ বিষয়টিকে আদরমাখা মনে করলেও এটি আসলে সামাজিক প্রাণীর চরম মানসিক আঘাত ও নিঃসঙ্গতার বহিঃপ্রকাশ। সংগঠনটির মতে চিড়িয়াখানা কোনো অভয়ারণ্য নয় বরং প্রাণীদের স্বাধীনতা হরণের স্থান। পেটা এশিয়ার পরিচালক জেসন বেকার মন্তব্য করেছেন যে সংবেদনশীল প্রাণীদের বিনোদনের বস্তু হিসেবে দেখা পর্যন্ত পাঞ্চের মতো অসংখ্য প্রাণীকে বন্দিদশায় কষ্ট পেতে হবে।

তিনি পাঞ্চকে কোনো স্বীকৃত অভয়ারণ্যে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন যেখানে সে স্বাভাবিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে। পাঞ্চের বন্দি জীবনের চাইতেও বড় উদ্বেগের বিষয় হলো ম্যাকাক বানরদের ওপর চলমান নিষ্ঠুরতা। বিশ্বজুড়ে বায়োমেডিক্যাল গবেষণায় এই প্রজাতির বানরদের গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কোভিড নাইনটিন ভ্যাকসিন থেকে শুরু করে ক্যানসার ও পার্কিনসন রোগের গবেষণায় এদের অবদান থাকলেও বিনিময়ে তারা পায় চরম যন্ত্রণা। চাহিদার কারণে গত তিন দশকে বন্য পরিবেশে এই বানরদের সংখ্যা প্রায় ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো থেকে অবৈধ পাচারের মাধ্যমে বন্য বানরদের খাঁচায় বন্দি করে গবেষণাগারে পাঠানো হচ্ছে। পাঞ্চের ভাইরাল হওয়া বিষণ্ণ চোখগুলো যেন আজ সেই অগণিত নামহীন বানরদের প্রতিনিধি হয়ে মানুষের মানবিক বোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

এস এম/ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language