মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই ইরানে ফের জেন-জি বিক্ষোভ

তেহরান, ২৩ ফেব্রুয়ারি – পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাঝেই ইরানে আবারও জেন-জি বিক্ষোভ জোরালো হচ্ছে। রাজধানী তেহরানে গতকাল রোববার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল করেছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ডিসেম্বর-জানুয়ারির বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে যারা নিহত হয়েছিলেন, তাদের স্মরণ এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে শনিবার রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ শুরু করে দেশটির তরুণ প্রজন্মের সরকারবিরোধী অংশ। তাদের এই কর্মসূচির জবাবে সরকারের সমর্থক তরুণ-তরুণীরাও মিছিল-সমাবেশের ডাক দেন।

ইরানের অনলাইন সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, তেহরানের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে সরকারবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্র হিসেবে রয়েছে শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইরানের সাবেক শাহ মুহম্মদ রেজা শাহ পাহালভির আমলের পতাকা হাতে মিছিল করছেন। সেই মিছিলে সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দেওয়া হয়। স্লোগানে তারা ইরানে আবার রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিও তোলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি তীব্র চাপে রয়েছে। দেশটির মুদ্রা ইরানি রিয়াল এখন বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা হিসেবে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক চাপ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের ব্যবসায়ী ও দোকানমালিকরা আন্দোলন শুরু করেন। পরে সেই আন্দোলন দ্রুত বড় আকারের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয় এবং সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে ওই বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। তবে পরে তিনি বিক্ষোভের প্রসঙ্গ থেকে সরে গিয়ে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের বিরুদ্ধে নতুন হুমকি দেন।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাসদস্যদের গুলিতে ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)-এর ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ৭ হাজারেরও বেশি।

তবে ইরানের বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ডিসেম্বর-জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।

এনএন/ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language