প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্রুতই ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে: শিক্ষামন্ত্রী

সিলেট, ১৫ এপ্রিল – প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে।
বুধবার সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য প্রদান করেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে প্রাথমিকে ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক পদের নিয়োগ নিয়ে চলমান আইনি জটিলতা নিরসনের জোর প্রচেষ্টা চলছে। শিক্ষক সংকট দূর করতে সরকার একটি বিশেষ পুল গঠনের পরিকল্পনা করছে যেখানে অবসরপ্রাপ্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই পুলের শিক্ষকদের সংকটপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে।
সিলেট ঢাকা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে আনা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
এছাড়া কারিগরি ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারে সরকার নিরলস কাজ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সাধারণ পাঠদান যেন পাবলিক পরীক্ষার কারণে বিঘ্নিত না হয় সে লক্ষ্যে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে আধুনিক মাল্টিপারপাস পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতির সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে যা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অর্জনে অন্তরায় বলে মন্ত্রী মনে করেন। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ক্লাসরুমে পাঠদানের মান নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন যে তারা স্মার্টফোনের মাধ্যমে নিজ এলাকার স্কুলের সিসি ক্যামেরা কোড ব্যবহার করে তদারকি করতে পারেন। ডিজিটাল উপায়ে নকলের প্রবণতা নিয়ে সতর্ক করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন যে শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে যথাযথভাবে পাঠদান করলে শিক্ষার্থীরা নকলের আশ্রয় নেবে না। তাই মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমেই এই সামাজিক ব্যাধি দূর করা সম্ভব।
একই সঙ্গে তিনি শিক্ষকদের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে আরও বেশি আন্তরিক হওয়ার অনুরোধ জানান।
এনএন/ ১৫ এপ্রিল ২০২৬









