ইরানের পরিস্থিতি এখন সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে, দাবি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচির

তেহরান, ১২ জানুয়ারি – ‘বিদেশি হস্তক্ষেপের’ কারণে ইরানে চলমান বিক্ষোভ এখন আর সাধারণ আন্দোলন নেই, তা সন্ত্রাসী যুদ্ধে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, বর্তমানে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি সরকারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ হোক বা যুদ্ধ— যেকোনো পরিস্থিতির জন্যই ইরান প্রস্তুত।
সোমবার রাজধানী তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় সৈয়দ আরাগচি বলেন, “ইরানে যা চলছে, তা আর বিক্ষোভ নয়, এটি সন্ত্রাসী যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভের আড়ালে সন্ত্রাসীরা নাশকতা চালাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করছে।”
তিনি বলেন, “এই সন্ত্রাসীদের নির্দেশনা দেশের বাইরে থেকে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের কাছে এমন কয়েকটি অডিও ক্লিপ এসেছে, যেখানে নাশকতা চালানোর নির্দেশ স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে।”
আরাগচি আরও বলেন, “তবে এসব সন্ত্রাসীর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে সরকার ও সামরিক বাহিনী সবসময় সক্রিয় রয়েছে। সন্ত্রাসীরা কখনোই সফল হবে না। সার্বিক পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণেই আছে।”
ইরানের বিক্ষোভে বিদেশি হস্তক্ষেপের জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করে আরাগচি বলেন, “মূলত ট্রাম্পের অযাচিত হস্তক্ষেপের কারণেই বিদেশি সন্ত্রাসীরা উৎসাহিত হয়েছে। আমরা পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ হোক বা সংলাপ— যেকোনো কিছুর জন্য আমরা প্রস্তুত।”
গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। সময় যত গড়াচ্ছে, আন্দোলনের তীব্রতাও তত বাড়ছে।
এই বিক্ষোভের মূল কারণ দেশের অর্থনৈতিক সংকট। দীর্ঘদিন ধরে অবমূল্যায়নের কারণে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর একটি। এখন এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরবস্থার কারণে ইরানে দীর্ঘদিন ধরেই ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করতে সাধারণ মানুষকে চরম কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ধর্মঘট থেকেই মূলত বিক্ষোভের সূচনা হয়।
এরপর কয়েক দিনের মধ্যেই বিক্ষোভ ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রতিদিনই এর তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের কারণে পুরো দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই এই বিক্ষোভের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে আসছেন। ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকার যদি কঠোরভাবে বিক্ষোভ দমন করে, তাহলে দেশটিতে সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে— এমন হুমকিও তিনি একাধিকবার দিয়েছেন।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গতকাল রোববার দেশের অর্থনীতি নতুন করে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, তার সরকার জনগণের কথা শুনতে প্রস্তুত রয়েছে।
এনএন/ ১২ জানুয়ারি ২০২৬









