
ইতিহাস কখনও কখনও দরজায় কড়া নাড়ে না। সে হঠাৎ করেই ঢুকে পড়ে। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি, শনিবার ভোর রাত। ক্যারিবীয় সাগরের আর্দ্র বাতাসে যখন ভারী এক অপেক্ষা জমে উঠছে, তখন আকাশে ভেসে ওঠে অচেনা গর্জন। মুহূর্তে কারাকাসের আকাশ বদলে যায়। আগুনের আলো, কংক্রিট ভাঙার শব্দ, আতঙ্কে ছুটে চলা মানুষ। রাষ্ট্রক্ষমতার দৃশ্যমান প্রতীকগুলো একের পর এক নিভে যেতে থাকে। যে দৃশ্যটি শুরু হয় সামরিক অভিযানের নামে, তা দ্রুত রূপ নেয় এক ভূরাজনৈতিক ঘোষণায়। ভেনিজুয়েলা আর আগের ভেনিজুয়েলা নেই।
এই অভিযানকে হোয়াইট হাউস নাম দিয়েছে ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার এক বছরের মাথায় ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সিদ্ধান্ত নিলেন, তা আধুনিক আন্তর্জাতিক রাজনীতির মানচিত্রে নতুন প্রশ্ন ছুড়ে দেয়। প্রায় দেড় শতাধিক বিমান, একাধিক সামরিক ঘাঁটি এবং সমন্বিত বিশেষ বাহিনীর অভিযানে লক্ষ্যবস্তু হয় কারাকাসের ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক কমপ্লেক্স ও লা কার্লোটা বিমানঘাঁটি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ক্ষমতার কেন্দ্র ভেঙে পড়ে এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো বন্দী হন। হোয়াইট হাউস ও সামরিক সূত্রের বরাতে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানের সামগ্রিক চিত্র ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে আসছে।
ট্রাম্প এই অভিযানের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়েছেন ইতিহাসের পরিচিত একটি ধারণা টেনে এনে। উনবিংশ শতাব্দীর মনরো নীতির এক আগ্রাসী পুনর্নির্মাণ, যাকে তিনি নিজেই কৌতুকের সুরে বলেছেন ‘ডনরো ডকট্রিন’। বক্তব্যটি সহজ। পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র প্রভাব থাকবে। বাইরের শক্তির উপস্থিতি সহ্য করা হবে না। ফ্লোরিডায় নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প যখন ঘোষণা করেন যে যুক্তরাষ্ট্র এখন ভেনিজুয়েলা শাসন করবে, তখন সেটি ছিল শক্তির নগ্ন উচ্চারণ।
এই ঘোষণায় বহু পুরোনো এক মানসিকতা স্পষ্ট। লাতিন আমেরিকা যেন আবারও কারও প্রভাবক্ষেত্র। সার্বভৌমত্ব যেন শর্তসাপেক্ষ। বন্ধু হলে গ্রহণযোগ্য, শত্রু হলে উৎখাতযোগ্য। এই মনোভাব নতুন নয়, তবে এত নির্দ্বিধায় উচ্চারণ সাম্প্রতিক কালে বিরল, আর ঠিক সেখানেই বিশ্বব্যবস্থার ঘুম ভেঙে যায়।
ট্রাম্প প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক যুক্তি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। অভিযোগ, মাদুরো একজন নার্কো টেররিস্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের নেপথ্যে তার ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু এই যুক্তির পাশাপাশি আরেকটি বাস্তবতা অনিবার্যভাবে সামনে আসে। ভেনিজুয়েলা বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুদের দেশ, প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। বিশ্বের মোট প্রমাণিত তেল মজুদের প্রায় সতের শতাংশের কাছাকাছি বলে যে হিসাব প্রচলিত, তা এই সম্পদের রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও তীক্ষ্ণ করে। ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, তিনি ধরে নিচ্ছেন তেল যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
বর্তমানে ভেনিজুয়েলার তেলের বড় ক্রেতা চীন। যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে তেল বাণিজ্যের পাল্লা বেইজিং থেকে ওয়াশিংটনের দিকে সরে যেতে পারে। তবে ঝুঁকি কম নয়। ভেনিজুয়েলা ওপেকের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। যুক্তরাষ্ট্র যদি উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর পথে যায়, ওপেকের সঙ্গে দাম ও কোটা নিয়ে সংঘাতের সম্ভাবনাও তৈরি হবে। আর অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা যদি গৃহসংঘাতে গড়ায়, তাহলে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা কাগজেই আটকে যাবে।
এই সামরিক অভিযানের সবচেয়ে নাটকীয় ও বিস্ফোরক অধ্যায়টি ঘটে কারাকাসের ভেতরেই। ভোরের অন্ধকার কাটার আগেই নিকোলাস মাদুরোকে একটি সুরক্ষিত স্থাপনা থেকে আটক করা হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই তাকে রাজধানী থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, আর সেই সময় থেকেই কারাকাসের ভেতরে গুজব ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।
কীভাবে তাকে দেশ ছাড়ানো হলো, তা নিয়েই সবচেয়ে বেশি ধোঁয়াশা এবং বিতর্ক। কিছু বর্ণনায় বলা হয়, তাকে প্রথমে হেলিকপ্টারে করে ক্যারিবীয় অঞ্চলের একটি ঘাঁটিতে নেওয়া হয়, পরে উচ্চ নিরাপত্তায় সামরিক বিমানে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। তবে এই পুরো প্রক্রিয়ায় ভেনিজুয়েলার কোনো আদালতের নির্দেশ, কোনো সংসদীয় অনুমোদন বা আন্তর্জাতিক সংস্থার দৃশ্যমান পর্যবেক্ষণের কথা সামনে আসেনি। একটি সার্বভৌম দেশের প্রেসিডেন্টকে এভাবে অন্য রাষ্ট্রে তুলে নেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের সীমারেখা কার্যত মুছে দিয়েছে এবং দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর জন্য এক ভয়াবহ নজির স্থাপন করেছে।
মাদুরোর গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়তে কারাকাসে তৈরি হয় টানটান উত্তেজনা। সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল দ্বিধাবিভক্ত। কেউ মাদুরোর পতনকে দীর্ঘ দুঃস্বপ্নের অবসান হিসেবে দেখেছেন, কেউ আবার এটিকে সরাসরি বিদেশি অপহরণ বলে আখ্যা দিয়েছেন। একটি বাক্য তখন সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়ায়, “আমরা সরকার বদল চাইছিলাম, কিন্তু অপমান নয়।”
বর্তমানে নিকোলাস মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চ নিরাপত্তা কারাগারে আটক রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। নিউইয়র্কে তার বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও সংগঠিত অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি চলছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি আইনের শাসনের বিজয়। তবে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, একটি রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে এইভাবে গ্রেপ্তার করে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার বৈধ কাঠামো আসলে কোথায় দাঁড়ায়।
২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার সরকারি বন্ড ও ঋণপত্র কেনাবেচা নিষিদ্ধ করে, যার ফলে দেশটির বৈদেশিক ঋণ পুনর্গঠন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। দুই বছর পর, ২০১৯ সালে, ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে ভেনিজুয়েলার তেলের প্রধান বাজারগুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং রাষ্ট্রের আয়ের প্রায় পুরো রক্তপ্রবাহ এক ধাক্কায় থেমে পড়ে। এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আর কেবল একটি সরকারের ওপর চাপ ছিল না; তা ধীরে ধীরে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র ও অর্থনীতিকে অচল করে দেয়।
এই অর্থনৈতিক অবরোধের সরাসরি অভিঘাত নেমে আসে সাধারণ মানুষের জীবনে। রাষ্ট্রের হাতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ শুকিয়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যাহত হয়, উৎপাদন থমকে দাঁড়ায়, এবং বাজার ব্যবস্থায় আস্থার ভাঙন শুরু হয়। এরই পরিণতিতে ভেনিজুয়েলা ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতির মুখে পড়ে। ২০১৮ সালে মুদ্রাস্ফীতির হার পৌঁছে যায় অবিশ্বাস্য তেরো লাখ শতাংশে। তখন বাজারে অর্থ আর বিনিময়ের মাধ্যম ছিল না; বলিভার হয়ে উঠেছিল কাগজের প্রতীক মাত্র। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে মানুষকে বস্তাভর্তি নোট নিয়ে বের হতে হতো। আজকের অস্থির পরিস্থিতিতে সেই স্মৃতি আবার ফিরে এসেছে। মানুষ আবার হিসেব কষছে, আগামী সপ্তাহে দাম কতটা বাড়বে, তাদের সঞ্চয় আর কতটা মূল্যহীন হয়ে পড়বে।
এই দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক ধসের সামাজিক মূল্য ছিল আরও গভীর। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) ও আঞ্চলিক গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, গত আট বছরে প্রায় আশি লাখ মানুষ দেশ ছেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে ভেনিজুয়েলার সোনা ও বৈদেশিক সম্পদ জব্দ থাকার বিষয়টিও তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই অর্থ ভেনিজুয়েলার পুনর্গঠনে ব্যবহার করা হবে। তবে সমালোচকদের মতে, এটি পুনর্গঠনের ভাষায় আরোপিত আরেক ধরনের কর্তৃত্ব, যেখানে একটি দেশের সম্পদের ওপর বাইরের শক্তির নিয়ন্ত্রণ স্থায়ী রূপ পাচ্ছে।
কারাকাসের দৈনন্দিন দৃশ্য আজ অনিশ্চয়তার ভাষায় কথা বলে। শহরের কিছু এলাকায় দোকানের শাটার আধখোলা, কোথাও সম্পূর্ণ বন্ধ। রাস্তায় সেনা টহল, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সাঁজোয়া যান, মোবাইল নেটওয়ার্ক অনিয়মিত, বিদ্যুৎ আছে আবার নেই। প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে, কিন্তু রাষ্ট্রযন্ত্র স্থির নয়। বরং প্রশ্ন জমে উঠেছে, কে চালাচ্ছে দেশ, কোন দিকে যাচ্ছে ভেনিজুয়েলা, আর সিদ্ধান্তের সিল কার হাতে।
ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক অঙ্গন এখন বিভক্ত। বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোর সমর্থকরা ধারণা করেছিলেন, ক্ষমতার শূন্যতায় তারাই হবে ওয়াশিংটনের প্রথম পছন্দ। কিন্তু বাস্তবে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের উপেক্ষা করে বিদ্যমান ক্ষমতাকাঠামোর ভেতর থেকেই ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের চোখে এটি স্পষ্ট বার্তা, ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার গণতন্ত্র নয়, স্থিতিশীলতা এবং তেলের চুক্তি। সেনাবাহিনীর অবস্থানও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের একটি অংশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ব্যস্ত। প্রকাশ্যে বিদ্রোহ নেই, আবার নিঃশর্ত আনুগত্যের ঘোষণা নেই।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়াগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মাদুরোর পতন নিয়ে কোনো সহানুভূতি দেখাননি; তার বক্তব্যে বরং দীর্ঘদিনের অস্বস্তির অবসানই প্রতিফলিত হয়েছে। বিপরীতে রাশিয়া ও চীন এই সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে। লাতিন আমেরিকার ভেতর থেকেও প্রতিবাদের সুর শোনা যাচ্ছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি অগ্রহণযোগ্য সীমা অতিক্রম করেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নিরাপত্তা পরিষদে প্রশ্ন উঠেছে, এই ধরনের কমান্ডো অভিযান জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ। এই দৃষ্টান্ত স্থায়ী হলে ভবিষ্যতে নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো রাষ্ট্রই নিজেকে সত্যিকার অর্থে নিরাপদ ভাবতে পারবে না।
পানামা, ইরাক, লিবিয়ার অভিজ্ঞতা বলে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বদলাতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র গড়তে পারে না, অন্তত সহজে পারে না। ট্রাম্পের নীতি সেই পুরোনো পরীক্ষার আরও ঝুঁকিপূর্ণ সংস্করণ। পেশিশক্তির রাজনীতি স্বল্পমেয়াদে ফল দিতে পারে, দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরোধ জন্ম দেয়। লাতিন আমেরিকায় নতুন করে মার্কিনবিরোধী মনোভাব চাঙ্গা হওয়ার আশঙ্কা তাই তাত্ত্বিক নয়, এটি ইতিহাসসম্মত সম্ভাবনা।
নিকোলাস মাদুরো বিতর্কিত ছিলেন, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু যে পদ্ধতিতে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র একটি দুর্বল রাষ্ট্রের ভেতরে ঢুকে ক্ষমতার চাকা ঘুরিয়ে দিল, তা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য অশনি সংকেত। যদি এই দৃষ্টান্ত স্বীকৃতি পায়, তবে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো আইন রক্ষার অজুহাতে সম্পদসমৃদ্ধ দুর্বল দেশকে লক্ষ্য করার নৈতিক অনুমতি পেয়ে যাবে। তখন বিশ্ব কেবল অস্থির হবে না, বিশ্বব্যবস্থা আরও অনিশ্চিত হবে।
ভেনিজুয়েলার জন্য এটি মুক্তির সূর্যোদয়, নাকি নতুন ঔপনিবেশিক ছায়ার শুরু, তা এখনই বলা কঠিন। তবে একটি সত্য স্পষ্ট, তেলের রাজনীতি যখন গণতন্ত্রের মুখোশ পরে, তখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ। কারাকাসের রাস্তায় আজ যে আতঙ্ক, যে জিজ্ঞাসা, যে দিশাহীনতা, তা শুধু একটি দেশের গল্প নয়, এটি আগামী দিনের বিশ্বনীতির পূর্বাভাস। এই আগুন যদি ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে ক্ষত শুধু ভেনিজুয়েলার থাকবে না, থাকবে গোটা অঞ্চলের, থাকবে বিশ্ববাজারের, থাকবে আন্তর্জাতিক আইনেরও। আর তখন ইতিহাস আবারও প্রমাণ করবে, শক্তি দিয়ে দেশ দখল করা যায়, কিন্তু স্থিতি কিনে আনা যায় না।
তথ্যসূত্র:
The New York Times, Reuters, BBC News, Al Jazeera (3-4 January 2026)









