
আগামীকাল ৪ নভেম্বর ২০২৫, নিউ ইয়র্কের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। সময় যত এগোচ্ছে, উত্তেজনা তত বাড়ছে। শহরের সড়ক, সাবওয়ে, কুইন্সের দোকানপাট কিংবা ব্রুকলিনের অলিগলি সবখানেই এখন একটাই প্রশ্ন, কে হবেন নিউ ইয়র্কের নতুন নগরপিতা?
এই নির্বাচনে তিন জন প্রধান প্রার্থী আছেন। প্রথমেই Zohran Mamdani। বয়স মাত্র ৩৪, কিন্তু রাজনৈতিক পরিপক্বতায় তিনি অনেক অভিজ্ঞ প্রার্থীকেও পেছনে ফেলেছেন। তিনি নিজেকে প্রগতিশীল সমাজনীতির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর প্রচারণায় উঠে এসেছে রেন্ট ফ্রিজ, গণপরিবহন সহজলভ্য করা, এবং ন্যায্য কর ব্যবস্থার মতো বাস্তব ইস্যু।
দ্বিতীয় প্রার্থী Andrew Cuomo, নিউ ইয়র্কের সাবেক গভর্নর। তিনি অভিজ্ঞতা ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছেন। সাম্প্রতিক এক বক্তৃতায় তিনি বলেন, “মামদানি জিতলে ট্রাম্প শহর দখল করবে” মন্তব্যটি শহরের রাজনীতিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে এবং ভোটারদের মেরুকরণ আরও তীব্র করেছে।
তৃতীয় প্রার্থী Curtis Sliwa রিপাবলিকান দলের প্রতিনিধি। যদিও তাঁর জয়ের সম্ভাবনা সীমিত, তবুও র্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং (Ranked Choice Voting) ব্যবস্থার কারণে তাঁর ভোট দ্বিতীয় বা তৃতীয় পছন্দ হিসেবে কাকে উপকৃত করবে সেটিই বড় প্রশ্ন।
সর্বশেষ জরিপে দেখা যাচ্ছে মামদানি এগিয়ে আছেন। জরিপ অনুযায়ী, তাঁর সমর্থন প্রায় ৪৩ শতাংশ, কুওমো ৩৩ শতাংশ, আর স্লিওয়া ১৪ শতাংশে অবস্থান করছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, মামদানির পক্ষে ভোটের গতি ইতিবাচক হলেও, সিদ্ধান্তহীন ভোটার ও দ্বিতীয় পছন্দের ভোট (RCV)–ই শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর নাম নির্ধারণ করবে।
এই নির্বাচনের আরেকটি আকর্ষণীয় দিক হলো যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সম্পৃক্ততা। জানা গেছে, তিনি মামদানিকে ফোন করে তাঁর প্রচারণার প্রশংসা করেছেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে পরামর্শদাতা হিসেবে পাশে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি মামদানির জন্য এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক সমর্থন হিসেবে কাজ করেছে।
একাধিক শ্রমিক ইউনিয়নও মামদানির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। বিশেষত 32BJ SEIU ও Hotel and Gaming Trades Council এর মতো প্রভাবশালী সংগঠন তাঁর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই সমর্থনগুলো দেখায় যে, শ্রমজীবী ভোটাররা আগের তুলনায় অনেক বেশি সংগঠিত ও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন।
তবে সবকিছুই আশাবাদের গল্প নয়। শহরের কিছু রক্ষণশীল গণমাধ্যম এবং রাজনৈতিক মহল ভয়ভিত্তিক প্রচারণা চালাচ্ছে। নিউ ইয়র্ক পোস্ট-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২৬ শতাংশেরও বেশি নিউ ইয়র্কার জানিয়েছেন, যদি মামদানি জয়ী হন, তারা শহর ছাড়ার কথা ভাববেন। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই প্রচারণা মানুষের মাঝে অস্থিরতা সৃষ্টি করে “পরিবর্তন মানেই ঝুঁকি” এমন ধারণা জোরদার করার কৌশল।
এদিকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, তরুণ ভোটারদের মধ্যে এবার উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। তাদের জন্য ৪ নভেম্বর কেবল একটি তারিখ নয়, এটি ইতিহাস তৈরির দিন। তারা বিশ্বাস করছে, এই ভোট শহরটিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে। তারা বলছে, “এই শহর আমাদের, আর এবার আমরাই তার ভবিষ্যৎ ঠিক করব।”









