অপরাধ

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে হানি ট্র্যাপ ও প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৭

ঢাকা, ২২ আগস্ট – চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা ও হানি ট্র্যাপে ফেলে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের সঙ্গে যুক্ত সংঘবদ্ধ একটি চক্রের ৭ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর শেওড়াপাড়া ও তেজগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এদিন একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান পিপিএম।

গ্রেপ্তারদের নাম মো. বিপ্লব খান (৩৩), ফারিন তানহা তোফা (২৯), সম্পা আক্তার (২৪), শাহ মোহাম্মদ জোবায়ের অভিক (২৩), মো. আল-মাসুদ (৩২), মোছা. মনিকা আক্তার (১৮) ও মো. আবু সুফিয়ান (২৭) বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৩ আগস্ট তারিখ শারীরিক অসুস্থতার কারণে মুহাম্মদপুরের নুরজাহান রোডে অবস্থিত এস.পি.সি থেরাপি সেন্টারে সেবা নিতে আসেন শরিয়তপুরের জনৈক মো. রহমান এবং বান্দরবানের মো. মনির উদ্দিন। সেখানে পাশাপাশি বেডে থাকার সুবাদে তাদের মধ্যে পরিচয় হয় ও পরে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। মো. রহমান পেশায় একজন গাড়ি চালক এবং মনির উদ্দিন কক্সবাজারের পেকুয়া সাবমেরিন চায়না প্রজেক্টে দোভাষী হিসেবে কর্মরত আছেন।

গত ১৯ আগস্ট মো. রহমানের জন্য চাকরির প্রস্তাব নিয়ে মনির তাকে একটি মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করতে বলেন। মনির ওই নাম্বারটি পান ফেসবুকে একটি গাড়ি চালকের চাকরির বিজ্ঞাপন থেকে। মো. রহমান সেই নম্বরে যোগাযোগ করলে তাকে মিরপুরের বারেক মোল্লার এলাকায় দেখা করতে বলা হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে মো. রহমান ও মনির উদ্দিন মিরপুর ৬০ ফিটে বারেক মোল্লার এলাকায় পৌঁছালে একজন যুবক তাদের সঙ্গে দেখা করে। চাকরির বিষয়ে কথাবার্তার একপর্যায়ে তিনি তাদের একটি অফিসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ব্যাটারি চালিত টমটমে করে মিরপুর শেওড়াপাড়ার একটি বিল্ডিংয়ের ৬ষ্ঠ তলায় নিয়ে যান।

সেখানে তাদের একটি কক্ষে বসানো হয় এবং ওই যুবক তার সঙ্গী ৯-১০ জন পুরুষ ও ৬-৭ জন নারীকে ডেকে আনেন। এরপর তারা মো. রহমান ও মনির উদ্দিনকে আটক করে মারধর শুরু করেন। তিনজন নারীকে তাদের পাশে বসিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়। প্রতারকরা তাদের কাছ থেকে নগদ ১১ হাজার টাকা, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫৫ হাজার টাকা এবং মো. রহমানের কাছ থেকে একটি নোকিয়া মোবাইল ও মনিরের কাছ থেকে রেডমি-সি৩ সহ দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল হাতিয়ে নেয়। ঘটনাটি কোথাও প্রকাশ করলে ধারণকৃত ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরালের পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর তাদেরকে ওই বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়।

ঘটনাটি মিরপুর জোনের ডিবির নজরে আসার পর অভিযানে নামে তাদের একাধিক টিম। গ্রেপ্তারের সময় ভিকটিম মনির উদ্দিনের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া রেডমি-সি৩ মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া, আসামিদের ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ৭ জন অপরাধের কথা স্বীকার করেন। দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক, ইমো এবং টেলিগ্রামের মাধ্যমে রিয়েল সার্ভিস ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন তারা। আত্মসম্মানের ভয়ে অনেক ভিকটিম পুলিশের কাছে অভিযোগ না করায় নিজেদের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড অবাধে চালিয়ে যাচ্ছিল চক্রটি। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

সূত্র: আরটিভি নিউজ
এনএন/ ২২ আগস্ট ২০২৫

 

Back to top button
🌐 Read in Your Language