
নেত্রকোনা, ১৭ সেপ্টেম্বর – নেত্রকোনায় ভিন্ন ভিন্ন পরিচয় ও ঠিকানা ব্যবহার করে জাল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির অভিযোগে রবিউল ইসলাম ওরফে রনি (২১) নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ৯৩টি জাল এনআইডিতে একই ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল। ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে নেত্রকোনা শহরের একটি দোকানে ভুয়া এনআইডি প্রিন্ট করার সময় তাঁকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকার দত্ত মার্কেটের ‘সিদ্দিক কর্নার ভ্যারাইটিজ স্টোরে’ অভিযান চালায় জেলা ডিবি। সেখানে ভুয়া এনআইডি প্রিন্ট করার অভিযোগে রবিউলকে আটক করা হয়।
অভিযানের সময় তাঁর কাছ থেকে সাতটি প্রিন্ট করা জাল এনআইডি এবং ছয়টি এনআইডির পেছনের অংশের প্রিন্ট কপি পাওয়া যায়। পরে তাঁর মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে আরও ৮০টি জাল এনআইডির সফট কপি পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা কার্ড ও সফট কপিগুলোতে আলাদা আলাদা নাম, বাবার নাম, জন্মতারিখ, পরিচয় নম্বর এবং ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলোতে একই ব্যক্তির ছবি দেখা গেছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ছবিগুলোর মধ্যে মূল পার্থক্য হিসেবে শার্টের রঙ পরিবর্তন করা হয়েছিল। অর্থাৎ, ভিন্ন পরিচয় দেখানোর চেষ্টা থাকলেও ছবির ব্যক্তি একই বলে পুলিশের দাবি।
গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম ওরফে রনির বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গাংগাইর গ্রামে। তিনি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রবিউল নেত্রকোনায় তাঁর স্ত্রীর কাছে গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি ওই দোকানে জাল এনআইডি প্রিন্ট করতে যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
রবিউলের বিরুদ্ধে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইনে মামলা করা হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন জেলা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) হায়দার আলী রানা।
তদন্তকারীরা এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এবং জাল এনআইডিগুলো কী উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নেত্রকোনা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন জানিয়েছেন, একজন ব্যক্তির একাধিক এনআইডি করার সুযোগ নেই। এ ধরনের জালিয়াতি নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে শনাক্ত হওয়ার কথা বলেও তিনি জানান।
মামলায় যে ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে, সেখানে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে বলে নির্বাচন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। মামলার পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত অবশ্য আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা উপকরণগুলোর মধ্যে ছিল—
- ৭টি প্রিন্ট করা জাল এনআইডি
- ৬টি এনআইডির পেছনের অংশের প্রিন্ট কপি
- মোবাইলে থাকা ৮০টি জাল এনআইডির সফট কপি
এই সংখ্যা মিলিয়ে পুলিশের বর্ণনায় মোট ৯৩টি জাল এনআইডি-সংক্রান্ত নথি/কপির কথা এসেছে। তবে ছয়টি নথি পূর্ণ এনআইডি কার্ড নয়, বরং পেছনের অংশের প্রিন্ট কপি—তাই সংখ্যাটিকে ‘৯৩টি জাল এনআইডি’ হিসেবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রে এই পার্থক্যটি পরিষ্কার রাখা জরুরি।
মামলাটির তদন্ত চলছে। তদন্তে জাল এনআইডিগুলোর উৎস, এগুলো তৈরির উদ্দেশ্য এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
রবিউল বর্তমানে আদালতের নির্দেশে কারাগারে রয়েছেন। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আদালত-প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
FAQ
১. নেত্রকোনায় কতটি জাল এনআইডির অভিযোগ পাওয়া গেছে?
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, একই ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করা ৯৩টি জাল এনআইডি-সংক্রান্ত নথি/কপি উদ্ধার হয়েছে—৭টি প্রিন্ট করা এনআইডি, ৬টি পেছনের অংশ এবং ৮০টি সফট কপি।
২. গ্রেপ্তার হওয়া তরুণের নাম কী?
তাঁর নাম রবিউল ইসলাম ওরফে রনি, বয়স ২১ বছর।
৩. রবিউলকে কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়?
১৫ সেপ্টেম্বর রাতে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকার দত্ত মার্কেটের ‘সিদ্দিক কর্নার ভ্যারাইটিজ স্টোরে’ অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।
৪. জাল এনআইডিগুলোর বিশেষত্ব কী?
পুলিশের দাবি, প্রতিটি নথিতে নাম, বাবার নাম, জন্মতারিখ, পরিচয় নম্বর ও ঠিকানা আলাদা ছিল; কিন্তু একই ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করা হয়েছিল।
৫. রবিউলকে কি আদালতে পাঠানো হয়েছে?
হ্যাঁ। ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁকে আদালতে হাজির করার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।







