আইন-আদালত

ছাত্র আন্দোলনে ইয়ামিন হত্যা: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর – জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সাভারে মিলিটারি গ্রেডের সাঁজোয়া যান (এপিসি) থেকে টেনে ফেলে নির্মমভাবে আসহাবুল ইয়ামিনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঐতিহাসিক শুনানির দিন আজ। সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৯ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের (চার্জ ফ্রেম) বিষয়ে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই চাঞ্চল্যকর মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

কেন আজকের দিন ধার্য?

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন নিয়ে প্রসিকিউশনের শুনানির কথা ছিল। তবে আসামিপক্ষ সময় আবেদন করায় ট্রাইব্যুনাল এক মাস সময় দিয়ে আজকের দিন (১৮ অক্টোবর) ধার্য করেন।

এর আগে গত ২৬ জুলাই মামলার ১৯ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগটি আমলে নিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। পরবর্তীতে ৭ সেপ্টেম্বর পলাতক থাকা ১৩ আসামির আইনি অধিকার সুরক্ষায় তাঁদের পক্ষে ‘স্টেট ডিফেন্স’ আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন আদালত।

কারাগারে ৬ আসামি, সাবেক এমপি সাইফুলসহ ১৩ জন পলাতক

এই মামলায় ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ৬ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য:

মো. আব্দুল্লাহিল কাফী (সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ক্রাইম অ্যান্ড অপস, ঢাকা)

মো. শাহিদুল ইসলাম (সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সাভার সার্কেল)

এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সুহেল মিয়া, কনস্টেবল মাহফুজ মিয়া ও মিজানুর রহমান।

অন্যদিকে সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ পলাতক রয়েছেন ১৩ জন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন— ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাভার থানার সাবেক ওসি শাহজামান, আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি এএফএম সায়েদ, সাভার উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব, মো. আতিকুর রহমান, ফখরুল আলম সমর, মেহেদী হাসান তুষার, রাজু আহম্মেদ, মো. ফরিদ, জামান খান ও শরীফ আশরাফুল আলম বাবুল।

১৮ জুলাইয়ের সেই বীভৎস ও বর্বরোচিত ঘটনা

প্রসিকিউশনের দেওয়া অভিযোগে উঠে এসেছে গত ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে ঘটে যাওয়া সেই পৈশাচিক চিত্র।

অভিযোগে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে আন্দোলনরত আসহাবুল ইয়ামিনকে ধরে নিয়ে সাঁজোয়া যানের কাছে যায় পুলিশ ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসীরা। অতি কাছ থেকে তাঁর বুকের বাঁ পাশে গুলি চালানো হয়, যাতে অসংখ্য স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়।

এরপর আন্দোলনকারীদের মনে চরম ভয় ও সন্ত্রাস সৃষ্টির জন্য প্রায়-মৃত ইয়ামিনকে সাঁজোয়া যানের ওপর ফেলে রেখে গাড়িটি রাস্তায় এপাশ-ওপাশ ঘোরাতে থাকে পুলিশ। একপর্যায়ে তাঁকে রাস্তার ওপর ফেলে দেওয়া হয়। ভিডিওতে তাঁকে তখনও নিশ্বাস নিতে দেখা গেলেও চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে টেনে সড়ক বিভাজকের পাশে ফেলে রাখা হয়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

আজ ট্রাইব্যুনালে এই বর্বরোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে অভিযোগ গঠিত হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো দেশ।

এনএন/ ১৮ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language