এক ক্লিকেই মিলবে ট্রেড লাইসেন্স! ব্যবসা সহজ করতে বাণিজ্যমন্ত্রীর যুগান্তকারী ঘোষণা

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর – দেশে নতুন ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান সব ধরনের জটিলতা কাটিয়ে ওঠার বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে ট্রেড লাইসেন্স প্রদানব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “ব্যবসা পরিচালনায় অপ্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা অনতিবিলম্বে দূর করতে হবে।”
শনিবার বিকেলে সচিবালয়ের অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। পাশাপাশি দেশে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা ছাড়পত্র নবায়নের নামে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি।
ঘরে বসেই ট্রেড লাইসেন্স: কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টাল
বর্তমানে দেশের ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনগুলোতে পৃথক পৃথক নিয়মে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়, যা ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ। এই সনাতন পদ্ধতি ভেঙে একটি **সমন্বিত একক অনলাইন পোর্টাল** চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থা চালু হলে:
ব্যবসায়ীরা একটি মাত্র ডিজিটাল পোর্টালে ঢুকে কাগজপত্র দাখিল ও আবেদন করতে পারবেন।
অনলাইনে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে ঘরে বসেই পাওয়া যাবে ট্রেড লাইসেন্স।
লাইসেন্সের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার পাশাপাশি এর নাম পরিবর্তন করে ‘বিজনেস রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট’ করার পরিকল্পনা চলছে।
বিদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা ছাড়পত্রে হয়রানি বন্ধের তাগিদ
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সচল রাখতে আসা বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট ও সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স নবায়নে জটিলতা নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “বিদেশি নাগরিকরা কোনো না কোনো নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের অধীনেই কাজ করেন, যারা নিয়মিত সরকারকে কর দেয়। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা সব প্রত্যয়ন দেওয়ার পরও নিরাপত্তা ছাড়পত্রের নামে অযৌক্তিক বিলম্ব মেনে নেওয়া যায় না।” এই জটিলতা নিরসনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে একটি দ্রুত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
টাস্কফোর্সের প্রথম সভা ও বিনিয়োগের নতুন পরিবেশ
সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল টাস্ক ফোর্স অন ডিরেগুলেশন অ্যান্ড বিজনেস ফ্যাসিলিটেশন’-এর প্রথম এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সভায় ব্যবসার ব্যয় কমানো, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ টানতে বিভিন্ন দপ্তরের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। হাইপ্রোফাইল এই বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু
- আইনমন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান
- ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান: আশিক চৌধুরী
- উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ: এনবিআর ও বিএসইসি চেয়ারম্যান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, আরজেএসসি নিবন্ধক এবং এফবিসিসিআই সভাপতি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রস্তাবিত এই নীতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার সূচকে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
এনএন/ ১৮ অক্টোবর ২০২৬







