জানা-অজানা

মশা কাদের সবচেয়ে বেশি কামড়ায় জানুন

দেশে ভয়ানক রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু সমস্যা। হাসপাতালে জায়গা নেই, তবু প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য হারে মানুষ ভিড় করছে ভর্তি হওয়ার আশায়। দৈনিক মৃতের সংখ্যাও ভয় ধরাচ্ছে। ক্ষুদ্র প্রাণী মশার কামড় থেকে বাঁচতে তাই নানা উপায় খুঁজছে মানুষ। কিন্তু এই মশা কাদের সবচেয়ে বেশি কামড়ায়? বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন প্রশ্ন জাগতেই পারে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, যাদের মশা বেশি কামড়ায়, তাদের সারা জীবনই মশার কামড় খেয়েই যেতে হবে। নিউইয়র্কের রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুজীববিদ্যার গবেষক লেসলি ভসহলের নেতৃত্বে হওয়া গবেষণাটি বলছে, কিছু কিছু মানুষের চামড়ায় এমন কিছু উপাদান থাকে যা মশাকে আকৃষ্ট করে। সারাজীবনই সেই উপাদানগুলো ত্বকে পাওয়া যায়। তাই চিরকালই তাদের প্রতি মশা বেশি আকৃষ্ট হয়।

গত মঙ্গলবার বিজ্ঞান পত্রিকা ‘সেল’-এ প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাটি। ৬৪ জন স্বেচ্ছাসেবকের উপর করা হয়েছে পরীক্ষাটি।

গবেষকরা বলছেন, বিভিন্ন রকম ভাবে স্বেচ্ছাসেবকদের সাজিয়ে এডিস ইজিপ্টাই মশার সামনে নিয়ে গেছেন তারা। দেখা গেছে, বিশেষ কয়েকজন ব্যক্তির দিকে প্রায় একশো গুণ বেশি আকৃষ্ট হয়েছে মশা। বেশ কয়েক বছর ধরে পরীক্ষা করার পরেও একই রয়ে গেছে ফলাফল। এই ব্যক্তিদের গবেষকেরা নাম দিয়েছেন ‘মশক চুম্বক’ বলে।

কিন্তু কেন ঘটে এমনটা?

গবেষকদের দাবি, যাদের মশা বেশি কামড়াচ্ছে তাদের ত্বকে কিছু বিশেষ ধরনের অ্যাসিড ক্ষরিত হয়। ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে এই অ্যাসিডগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ত্বক ভেদে বিভিন্ন মানুষের দেহে বিভিন্ন হারে এই উপাদানগুলো ক্ষরিত হয়। ত্বকে বসবাসকারী কিছু ব্যাক্টেরিয়া এই অ্যাসিড থেকে উৎপাদিত ‘পিচ্ছিল’ কণাগুলোর উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে।

মানুষের গায়ের গন্ধও কিছুটা এই উপাদানের উপর নির্ভর করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই উপাদানের প্রতিই আকৃষ্ট হয় মশা। যেহেতু এই অ্যাসিডগুলো ত্বকের স্বাভাবিক উপাদান, তাই জোর করে এই উপাদানগুলো দেহ থেকে দূর করতে গেলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। ফলে মশার কামড় থেকে বাঁচার কোনো উপায় নেই।

আইএ/ ২২ অক্টোবর ২০২২


Back to top button
🌐 Read in Your Language