৪ মিনিটের অবিশ্বাস্য ঝড়ে আর্জেন্টিনার অলৌকিক প্রত্যাবর্তন! রোমেরো ও মেসির জোড়া গোলে সমতায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা

আটলান্টা, ৭ জুলাই – একেই বলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন! ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে যখন কোটি কোটি সমর্থক ধরে নিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ মিশন শেষ, ঠিক তখনই রূপকথার চিত্রনাট্য লিখলেন লিওনেল মেসিরা। মাত্র ৪ মিনিটের এক অবিশ্বাস্য ঝড়ে মিশরকে স্তব্ধ করে দিয়ে ২-২ গোলে সমতায় ফিরেছে আর্জেন্টিনা! মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে এখন চরম উন্মাদনা।
২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে প্রথম লাইফলাইন পায়। দলের আক্রমণভাগের ব্যর্থতার দিনে ত্রাণকর্তা হয়ে ওঠেন রক্ষণভাগের তারকা ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। মিশরের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ফাঁকি দিয়ে ডি-বক্সের একদম ভেতরে ঢুকে পড়েন তিনি।
এরপর ডান দিক থেকে অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেওয়া এক নিখুঁত ও মাপা ক্রসে বাতাসে ভেসে দুর্দান্ত এক হেড করেন রোমেরো। মিশরের অপ্রতিরোধ্য গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর তাঁর বাঁ হাত দিয়ে বলটি ঠেকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু পোস্টের ভেতরের কোণ দিয়ে বল লাইনের ভেতরে ঢুকে পড়া আটকাতে পারেননি। মিশরীয় ডিফেন্ডাররা অফসাইডের জন্য আকুতি জানালেও ভিএআর (VAR) পরীক্ষায় গোলটি বৈধ বলে গণ্য হয়। ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ২-১।
রোমেরোর গোলের ঠিক ৫ মিনিটের মাথায় (ম্যাচের ৮৪ মিনিটে) পুরো স্টেডিয়ামকে উল্লাসের সুনামি ভাসিয়ে সমতা ফেরান স্বয়ং লিওনেল মেসি! বক্সের ভেতর বল পেয়ে এক জোরালো শট নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। শটটি গোলরক্ষকের গায়ে লেগে বারের নিচের অংশে আঘাত করে বুলেট গতিতে জালে জড়ায়।
এই সমতাসূচক গোলের মাধ্যমে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে দুটি গোল পরিশোধ করে টাইব্রেকারের আশা বাঁচিয়ে রাখল আর্জেন্টিনা। আর এই গোলের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি রেকর্ডও নিজের করে নিলেন মেসি।
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে এটি লিওনেল মেসির অষ্টম গোল। একই সাথে টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার এক অবিশ্বাস্য ও কালজয়ী কৃতিত্ব অর্জন করলেন এলএমটেন (LM10)।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এসে ২-২ গোলে সমতায় থাকা ম্যাচটি এখন যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিসের খলনায়ক মেসিই এখন ম্যাচের সবচেয়ে বড় নায়ক। খেলা কি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে নাকি শেষ মুহূর্তে আসবে জয়সূচক গোল? চোখ রাখুন মাঠের রোমাঞ্চকর লাইভ আপডেটে!
এনএন/ ৭ জুলাই ২০২৬









