স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ করলেন সাকিব

ঢাকা, ৭ নভেম্বর- গত এক বছরে অনেকবারই তিনি দেশের বাইরে গিয়েছেন এবং ফিরেছেনও। তবে এবারের দেশে ফেরাটা সাকিব আল হাসানকে দিচ্ছে নিষেধাজ্ঞার ভারমুক্ত হয়ে ফেরার প্রশান্তি। শুক্রবার ভোররাতে বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমকে সে কথা বলেছেনও, ‘এবার স্বস্তি নিয়েই দেশে এসেছি। এর আগে যখন এসেছি, তখন ওরকম স্বস্তিতে ছিলাম না।’
যদিও দেশে ফেরার পর ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই গুলশানের একটি সুপারশপের ফিতা কাটার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় এই অলরাউন্ডারকে ঘিরে অস্বস্তিও কম ছড়ায়নি। কোয়ারেন্টিনের নিয়ম না মেনেই যে জনসমাগমে গিয়েছিলেন তিনি! অথচ গত সপ্তাহেই বিদেশফেরতদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আগের মতোই ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন করার বাধ্যবাধকতাও বহাল এখনো। এই অবস্থায় সাকিবের ভোররাতে দেশে ফিরে দুপুরেই কোনো প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধনীতে যাওয়ার খবর শুনে ভালোভাবে নিতে পারেননি স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক শাহলিনা ফেরদৌস, ‘সাকিব এটি একদমই ঠিক কাজ করেননি। এ রকম করা যায় না। কভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকলেও ওনার ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন করার কথা।’
এই সুযোগে বিদেশফেরতদের জন্য অবশ্যই পালনীয় স্বাস্থ্য নির্দেশনাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি, ‘বিমান, নৌ বা রেল, যে পথেই কেউ দেশে ফিরুন না কেন, তাঁর কাছে কভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকলেও তিনি বাসায় যাবেন, কিন্তু বের হতে পারবেন না। হোম কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক।’ প্রসঙ্গত, গত ২৯ অক্টোবর দেশে ফিরে পরদিনই অনুশীলনে যোগ দিয়েছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তবে এর আগে করোনা পরীক্ষা করিয়ে ‘নেগেটিভ’ হয়েছিলেন তিনি। নেপাল ম্যাচ সামনে রেখে বিদেশি কোচ ও দেশের বাইরে থেকে আসা খেলোয়াড়দের জন্য এ বিষয়ক বিশেষ ছাড়পত্রও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে নিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি) বিদেশি কোচদের একই প্রক্রিয়ায় আগেভাগে অনুশীলন তদারকিতে নেমে যাওয়ার অনুমোদন নিয়েছিল। সাকিবের ক্ষেত্রে সে অনুমোদন এখনো নেওয়া হয়নি।
হয়নি যখন, তখন সাকিবের সুপারশপের উদ্বোধনীতে যাওয়ার দায়িত্বও নিচ্ছে না বিসিবি। এ বিষয়ে ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির প্রধান আকরাম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের ক্রিকেটাররা বায়ো-বাবলের (জৈব সুরক্ষা বলয়) মধ্যে নেই। কাজেই সাকিব কোথায় যাবে বা না যাবে, সেটি একান্তই ওর ব্যক্তিগত ব্যাপার। সে তাঁর নিজ দায়িত্বে গিয়েছে। আমরা এর দায়িত্ব নিচ্ছি না।’
যদিও সাকিবকে প্রধান অতিথি করে নিয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠান ইউনিলাইফের চেয়ারম্যান খালেদুর রহমানের দাবি, তাঁরা স্বাস্থ্যবিধি ভাঙেননি, ‘আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমাদের মৌখিকভাবে জানানো হয় যে কভিড নেগেটিভ সার্টিফিকেট থাকলে কোনো সমস্যা নেই। বিষয়টি সাকিবকে জানানোর পরই উনি আসতে সম্মতি দেন।’ সেখানে গিয়েও সাকিবকে পড়তে হয় অস্বস্তির মধ্যে। উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে পড়েন তিনি। কারো মধ্যেই ছিল না সামাজিক দূরত্ব মানার কোনো বালাই। ভোরে ফিরে দুপুরেই এমন অনুষ্ঠানে হাজিরা দিয়ে সাকিব নিজেও তৈরি করলেন সরকারি স্বাস্থ্যবিধি না মানার বাজে উদাহরণ!
সূত্র: কালের কন্ঠ
আর/০৮:১৪/৭ নভেম্বর









