সিলেট

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আব্দুর রশীদ ভূঁইয়ার ইন্তেকাল

সিলেট, ২৫ আগষ্ট- মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পিপি এম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা- সাধারণ সম্পাদক, সমাজসেবী, শিক্ষানুরাগী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ফেঞ্চুগঞ্জের কচুয়াবহর নিবাসী আব্দুর রশিদ ভূঁইয়া (রশিদ আমিন) আর নেই। মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) রাত ১০টা ২৫ মিনিটে সিলেটের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৯২ বছর। তিনি ৬ পুত্র, ২ কন্যা ও নাতি-নাতনি রেখে গেছেন।

আইনজীবী ও কবি মনিরুল ইসলাম ছাড়া সবাই ইংল্যান্ড ও কানাডায় বসবাস করেন। মরহুমের জানাজার নামাজ বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) বেলা আড়াইটায় হযরত মাইয়াম শাহ (র:) মাজার প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় এলাকাবাসী ছাড়াও বৃহত্তর সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক কর্মী, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জানাজায় মরহুমের বড় ছেলে ‘দেশে বিদেশে’ মিডিয়ার কর্ণধার সাংবাদিক নজরুল মিন্টোসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। জানাজা শেষে হজরত মাইয়াম শাহ মাজার প্রাঙ্গনে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।

আব্দুর রশীদ ভূঁইয়ার মৃত্যুতে ফেঞ্চুগঞ্জ প্রেসক্লাব, পিপিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করে মরহুমের শুভানুধ্যায়ীরা শোকবার্তা প্রেরণ করেন।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আব্দুর রশীদ ভূঁইয়া ১৯৫৩ সালে ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬০ সালে ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানা স্থাপনাকালে তিনি সরকারি চাকুরি ছেড়ে ঠিকাদারি ব্যবসায় নিয়োজিত হন। পাশাপাশি তিনি একজন পরিবহন ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ১৯৬৯ সালে তিনি রাজনীতির সাথে ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে যান। ৭০ এর নির্বাচনে কর্ণেল আতাউল গণী ওসমানীর প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন।

১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর আহবানে সাড়া দিয়ে তিনি এলাকার তরুনদের সংগঠিত করে ‘ঘরে ঘরে দুর্গ’ গড়ে তোলার প্রস্তুতি নেন। ফেঞ্চুগঞ্জে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী প্রবেশ করার প্রথম দিনই তাঁর বাড়িতে তারা হানা দেয়। অবশ্য এর আগেই তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং দেশের অভ্যন্তরে থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে থাকেন। জুন মাসের শেষের দিকে পাকিস্তানী দোসরদের বিশ্বাসঘাতকতায় তিনি হানাদার বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন এবং প্রায় ৫ মাস তিনি তাদের টর্চার সেলে বন্দি থাকেন। ঐ সময় তাঁকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করা হয়। দেশ স্বাধীনের মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি মুক্তিলাভ করেন।

আব্দুর রশীদ ভূঁইয়া আমৃত্যু দেশের জন্য কিছু করার চিন্তা করতেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে তিনি জড়িত ছিলেন।


Back to top button