ফরিদপুর

১০ বছর ধরে বিদেশে থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলছেন চামেলী!

ফরিদপুর, ০২ জুন– এক দশকের বেশি সময় ধরে ছুটি না নিয়ে তিনি থাকছেন ভারতে। অথচ মাস গেলে ঠিকই বেতন-ভাতা তুলছেন। রীতিমতো তুঘলঘি কাণ্ড ঘটিয়ে চলেছেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পরিবারকল্যাণ সহকারী চামেলী শিকদার।

সরকারি চাকরি করলেও তিনি অফিসে আসেন না দিনের পর দিন। মাঠকর্মীর কাজও করেন না মাসের পর মাস। কারণ, বছরের বেশির ভাগ সময়েই তিনি ভারতে থাকেন। অথচ ছুটি নেন না। অফিস থেকে জনসাধারণের মাঝে বিতরণের জন্য ওষুধপত্র ঠিকই তুলে নেওয়ার তথ্য রয়েছে। সেই সঙ্গে কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন মর্মে মাসিক প্রতিবেদনও জমা দেওয়া হয় তার নামে। এভাবেই মাসের পর মাস সরকারি বেতনভাতা তুলে নিচ্ছেন পরিবার কল্যাণ সহকারী চামেলী শিকদার।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চামেলী শিকদার উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের পল্লীবেড়া গ্রামের সুশান্ত শিকদারের ওরফে মাস্টারের স্ত্রী। পরিবার কল্যাণ সহকারী হিসেবে বাড়ির এলাকায় তার কর্মস্থল। সেখানে পরিকল্পিত পরিবার গঠনে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিতে নারীদের উদ্বুদ্ধ করতে ও বিভিন্ন সেবা সামগ্রী সরবরাহ করাই তার কাজ।

স্থানীয়রা বলছেন, গত ১০ বছর বেশি সময় ধরে চামেলী ওই এলাকায় পরিবার কল্যাণের কোনো কাজ করেন না। স্থানীয়রা কোনো সেবা পান না তার কাছ থেকে। তিনি ভারতে বাড়ি তৈরি করেছেন। সেখানে তার সন্তানরা পড়ালেখা করে। চামেলী তাদের সঙ্গেই থাকেন।

পল্লীবেড়া গ্রামের কবীর হোসেন বলেন, চামেলী শিকদার বহুদিন ধরে প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিম বাংলায় থাকেন। তবে কোথায় থাকেন তা আমরা কেউ জানি না। সেখানেই তার সন্তানরা পড়ালেখা করে। তাদের দেখভালের জন্য ভারতেই থাকেন বেশির ভাগ সময়।

ভাঙ্গার পরিবার কল্যাণ অফিসের কর্মরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চামেলী শিকদার তার কর্মস্থলে মাসের পর মাস অনুপস্থিত থেকেও বেতন উঠিয়ে নেন।

নাম প্রকাশে তার এক সহকর্মী বলেন, আগের এক কর্মকর্তার মাধ্যমে চামেলী এই অনিয়মকেই নিয়মে পরিণত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে আগের স্যারকে ম্যানেজ করে ছুটি ছাড়াই মাসের পর মাস অনুপস্থিত থাকেন। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করেন না। কিন্তু তিনি ওষুধসহ সামগ্রী নিয়ে যান। এমন কি তার মাসিক প্রতিবেদনও জমা দেন।

অদৃশ্য শক্তির বলে চামেলী শিকদার অফিসে বা মাঠে না গিয়ে, কোনো কাজ না করেই বেতনভাতা তুলে নিচ্ছেন বছরের পর বছর। নিচ্ছেন সরকারের উৎসব বোনাসসহ অন্যান্য সুবিধাদিও। তারা জানান, মাসের বেশির ভাগ সময় তিনি দেশের বাইরেই থাকেন। গত প্রায় ১০ বছর ধরে এভাবেই চালাচ্ছেন তিনি।

একটি সূত্রে জানায়, একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের সুবাদে চামেলী শিকদার এই দুর্নীতির সুযোগ করে নিয়েছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই কর্মকর্তাকে ব্যবহার করে অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ারও চেষ্টা চলছে।

এদিকে, পল্লীবেড়া গ্রামবাসী চামেলী শিকদারের ব্যাপারে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চামেলী শিকদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার কর্মস্থল ও তার বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

ভাঙ্গা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রবীন বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমি সদ্য যোগদান করেছি। এখানে এসে চামেলী শিকদারকে কোনোদিন কর্মস্থলে পাইনি। শিগগিরই তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভাঙ্গার ইউএনও মো. আজিম উদ্দিন বলেন, এ অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র : কালের কণ্ঠ
এম এন / ০২ জুন


Back to top button
🌐 Read in Your Language