ফরিদপুর

টিকটক তারকা বানানোর প্রলোভনে কিশোরীকে বিক্রির দায়ে একজনের কারাদণ্ড

ফরিদপুর, ১১ মে – ফরিদপুরে এক কিশোরীকে টিকটক তারকা ও মডেল বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে পতিতালয়ে বিক্রির দায়ে আদল কাজী নামের এক ব্যক্তিকে দুটি পৃথক ধারায় সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে ফরিদপুরের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আদল কাজী জেলার কোতোয়ালি থানার পূর্ব গঙ্গাবর্দী এলাকার বাসিন্দা।

রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ১০ ধারায় আসামিকে ৫ বছর এবং ১১ ধারায় ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উভয় ধারায় ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে যা অনাদায়ে আরও ৬ মাস করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে মোট ৭ বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২০ জুলাই ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বাড়ি থেকে অপহরণ করে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকার একটি পতিতালয়ে বিক্রি করা হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০২১ সালের ২৭ জুলাই রাতে র‍্যাব-৮ এর একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে এবং আদল কাজীকে গ্রেপ্তার করে।

ওই রাতেই র‍্যাব-৮ এর পক্ষ থেকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তদন্তকারী কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, আদল কাজী একটি সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং তিনি কৌশলে বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের সংগ্রহ করতেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এস এম/ ১১ মে ২০২৬


Back to top button
🌐 Read in Your Language