কুমিল্লা

কুমিল্লায় গান বাজানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নিহত ২

কুমিল্লা, ০১ এপ্রিল – কুমিল্লায় একটি বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে নাচ-গানকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন।

বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে দেবিদ্বার উপজেলার আব্দুল্লাহ পুর ইনসাফ মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- উপজেলার আব্দুল্লাহ পুর (জীবনপুর) গ্রামের হাবিব মিয়ার ছেলে সাইফুল (১৮) ও মুরাদনগর উপজেলার গুঞ্জুর গ্রামের রেনু মিয়ার পুত্র রাহিম (২০)। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরও ৮ থেকে ১০ জন যুবক।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

আরও পড়ুন : ভাইরাল হওয়া কুসিকের সেই কাউন্সিলর বরখাস্ত

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবিদ্বারের আবদুল্লাহপুর গ্রামের ওমান প্রবাসী জাকির হোসেনের মেয়ে নাজমা আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার বুড়িরপাড় গ্রামের প্রবাসী হোসাইন মিয়ার ৮ থেকে ৯ মাস আগে বিয়ে সম্পন্ন হয়। ওই বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল বৃহস্পতিবার।

বুধবার সন্ধ্যা থেকে কনের বাড়িতে নাচ ও গানের আয়োজন চলছিল। রাতে সেখানে নাচতে যান পাশ্ববর্তী মুরাদনগর উপজেলার গুঞ্জুর গ্রামের রাহিম, সজিব, মামুন ও আক্তারসহ আরও কয়েকজন। এ নিয়ে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে তাদের বাকতিবণ্ডা হয়।

বাকবিতণ্ডার জেরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিয়ে বাড়ির অদূরে আবদুল্লাহপুর ইনসাফ মার্কেটের সামনে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে গুঞ্জুর গ্রাম থেকে যাওয়া যুবকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ান। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন আহত হন। এদের মধ্যে সাইফুল ও রাহিম মারা যান।

আহতদের মধ্যে সজিব, মামুন, আক্তার হোসেনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর ভোর রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কনের মা সেলিনা আক্তার বলেন, রাতে আমাদের গ্রামের অনেক ছেলে ছাড়াও আশপাশের গ্রামের অনেক ছেলে আমাদের বাড়িতে আসে, আমরা অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত থাকায় তাদের মধ্যে কি নিয়ে ঘটনা ঘটেছে জানতে পারিনি। পরে লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি বাড়ির পাশে মার্কেটের সামনে মারামারি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে গভীর রাতে যখন ঘটনাস্থলে যাই তখন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিয়ে বাড়িতে নাচ-গান করতে এসে স্থানীয় যুবকদের সাথে পাশ্ববর্তী গ্রামের ছেলেদের কি অবস্থার প্রেক্ষিতে হতাহতের ঘটনা ঘটছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় কনের বাবা জাকির হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার বিস্তারিত কারণ এখনো জানতে পারিনি। দুইজনের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

সূত্র : সমকাল
এন এইচ, ০১ এপ্রিল

Back to top button