মিয়ানমারের জান্তা বিরোধী বিক্ষোভে ৩৬০ বিক্ষোভকারী নিহত

নেপিডো, ২৮ মার্চ – মিয়ানমারের জান্তা সরকার এক দিনে আরো ১০০ বিক্ষোভকারীকে গুলি করে হত্যা করেছে। গতকাল শনিবার দেশটির সশস্ত্র বাহিনী দিবসেই সামরিক বাহিনীর হাতে প্রাণ হারালেন এসব গণতন্ত্রকামী মানুষ। এ নিয়ে দেশটিতে এ পর্যন্ত ৩৬০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হলেন।
মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী দিবস সামনে রেখে আগেই বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন মিয়ানমারের গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকারীরা। তবে সেই আন্দোলনে গেলে মাথা ও পিঠে গুলি করা হতে পারে বলে শুক্রবার রাতে হুশিয়ারি দেয় জান্তা সরকার। মিয়ানমারের রাষ্ট্র পরিচালিত এমআরটিভি নিউজ চ্যানেলে সম্প্রচারিত এক ঘোষণায় বলা হয়, আগের জঘন্য মৃত্যুগুলোর ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত যে, বিক্ষোভে গেলে আপনি মাথা ও পিঠে গুলি লাগার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
আরও পড়ুন : মিয়ানমারে জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ৯০
এরপরও পূর্বনির্ধারিত ঘোষণা অনুসারে শনিবার রাস্তায় নামেন বিক্ষোভকারীরা। এদিন ইয়াঙ্গুন, মান্দালয়সহ দেশটির বিভিন্ন শহরে শোনা গেছে জান্তাবিরোধী স্লোগান। স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম মিয়ানমার নাউ ও মিজ্জিমা জানিয়েছে, শনিবার সারা দেশে ১০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।
সকালে ইয়াঙ্গুনের দালা শহরতলীতে একটি পুলিশ স্টেশনের বাইরে বিক্ষোভরত জনতার ওপর গুলি চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। এতে অন্তত চারজন নিহত এবং ১০ জন আহত হন। ইনসেন জেলায় গুলি করে হত্যা করা হয়েছে তিনজনকে। এর মধ্যে একজন স্থানীয় অনূর্ধ্ব-২১ ফুটবল দলের খেলোয়াড় ছিলেন।
গত ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত নেতাদের নিয়ে গঠিত গোষ্ঠী সিআরপিএইচের মুখপাত্র ডা. সাশা একটি অনলাইন ফোরামকে বলেন, আজ সশস্ত্র বাহিনীর জন্য লজ্জার দিন। সামরিক জেনারেলরা ৩০০ জনেরও বেশি নিরীহ মানুষকে হত্যা করে এখন সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদ্যাপন করছেন।
এদিকে, সকালে মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে সামরিক বাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে দেশটির জান্তা সরকারের প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং বলেছেন, তারা ‘গণতন্ত্রের জন্য’ লড়াই চালিয়ে যাবেন।
কোনো সময়সীমা না জানিয়ে নির্বাচন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে এ সেনাশাসক বলেন, দাবি জানাতে গিয়ে সহিংসতা করা স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এ ধরনের কর্মকা- একেবারেই অনুচিত।
সূত্র : প্রতিদিনের সংবাদ
এন এইচ, ২৮ মার্চ









