টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার লক্ষণ: পুরুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কোন বিষয়গুলো জানা জরুরি?

টেস্টোস্টেরন হলো পুরুষের শরীরের প্রধান ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি যৌন হরমোন। পুরুষের প্রজনন অঙ্গের স্বাভাবিক বিকাশ, শুক্রাণু উৎপাদন, যৌন আকাঙ্ক্ষা বজায় রাখা এবং পেশি ও হাড়ের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় এই হরমোনের ভূমিকা অপরিসীম। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রাকৃতিকভাবেই কমতে শুরু করে, তবে এই হরমোনের ঘাটতি সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রকাশ পায় না। দীর্ঘমেয়াদে শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে তা দৈনন্দিন জীবন ও স্বাস্থ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
টেস্টোস্টেরন কমে গেলে যে ৬টি প্রধান বিপদের মুখে পড়তে পারেন:
১. শরীরের লোম কমে যাওয়া: টেস্টোস্টেরনের ঘাটতির কারণে মুখমণ্ডল, বগল কিংবা শরীরের অন্যান্য স্থানের লোমের ঘনত্ব ও স্বাভাবিক বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।
২. পেশির ঘনত্ব ও শক্তি কমে যাওয়া: পেশি গঠন এবং তা দৃঢ় রাখতে টেস্টোস্টেরন কাজ করে। এই হরমোনের মাত্রা কমে গেলে পেশির ভর ও শারীরিক শক্তি দুটোই কমতে শুরু করে।
৩. যৌন ও প্রজনন সংক্রান্ত সমস্যা: টেস্টোস্টেরন হ্রাসের ফলে যৌন আকাঙ্ক্ষা (লিবাবিডো) কমে যাওয়া, উত্থানজনিত সমস্যা এবং শুক্রাণু উৎপাদন কমে যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে মনে রাখা জরুরি, বন্ধ্যত্বের একমাত্র কারণ টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি নয়।
৪. মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিতে ব্যাঘাত: হরমোনের এই ঘাটতির সঙ্গে কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা, মানসিক ক্লান্তি এবং কিছু ক্ষেত্রে স্মৃতিশক্তি সংক্রান্ত নানা সমস্যার গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
৫. বিষণ্নতা ও মেজাজের পরিবর্তন: টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে কারও কারও মধ্যে অকারণে মন খারাপ থাকা, অতিরিক্ত বিরক্তি ভাব, কোনো কিছুর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলা কিংবা বিষণ্নতার লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।
৬. হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া: হাড়ের ঘনত্ব ও শক্তি বজায় রাখতেও টেস্টোস্টেরন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন এই হরমোনের ঘাটতি থাকলে হাড়ের ঘনত্ব মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে, যার ফলে অস্টিওপোরোসিস ও হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
করণীয় ও চিকিৎসকের পরামর্শ
তবে মাথায় রাখা দরকার—এ ধরনের উপসর্গ বা লক্ষণ দেখা দিলেই যে সরাসরি টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে হুট করে পৌঁছে যাওয়া কোনোভাবেই ঠিক নয়। অন্য নানা শারীরিক জটিলতার কারণেও হুবহু একই ধরনের লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।
তাই এ ধরনের কোনো সমস্যা অনুভূত হলে নিজে থেকে কোনো ধারণা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সাধারণত চিকিৎসক সকালে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরের টেস্টোস্টেরনের সঠিক মাত্রা যাচাই করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে কেবল একটিমাত্র রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা শুরু না করে, রোগীর সার্বিক উপসর্গ এবং পরবর্তীতে পুনরায় পরীক্ষার ফল বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
এনএন







