শরীরে ক্যানসার বাসা বাঁধার আগেই সামলে যান: এই ৫টি দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনলেই কমবে মারাত্মক ঝুঁকি

ক্যানসার এমন এক নিঃশব্দ ঘাতক, যা হঠাৎ করেই মানবদেহে থাবা বসায় না। দীর্ঘদিনের অনিয়ম আর অভ্যাসের কারণে ধীরে ধীরে শরীরে এটি বাসা বাঁধে। চিকিৎসাবিজ্ঞান মতে, ক্যানসার সম্পূর্ণ নির্মূলের শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন হলেও, আমাদের দৈনিক চলাফেরার ৫টি অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলে এই প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
গবেষণার আলোয় ক্যানসার প্রতিরোধে যে ৫টি অভ্যাস এখনই বদলে ফেলা জরুরি:
১. ধূমপান কমানো ও পরোক্ষ ধোঁয়া এড়ানো
তামাক এবং সিগারেটের ধোঁয়ায় অন্তত ৭০টিরও বেশি ‘কার্সিনোজেন’ (ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান) থাকে—যেমন বেঞ্জিন, ফরম্যালডিহাইড ও নাইট্রোসামিন। এগুলো শরীরের কোষের ডিএনএ গঠন নষ্ট করে অনিয়ন্ত্রিত কোষ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। যারা ধূমপান করেন, তাদের অবিলম্বে এটি কমিয়ে শূন্যে আনা উচিত। পাশাপাশি অন্যদের ধোঁয়ার কাছাকাছি থাকা অর্থাৎ পরোক্ষ ধূমপান থেকেও দূরে থাকতে হবে।
২. রাত ১১টার মধ্যে অন্ধকার ঘরে ঘুমানো
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বলছে, রাত ১১টা থেকে ৩টার মধ্যে মানবদেহে ডিএনএ মেরামতের স্বাভাবিক কাজ চলে। রাতে ঘুমানোর সময় ঘর সম্পূর্ণ অন্ধকার রাখা এবং মোবাইল বা ল্যাপটপের ‘ব্লু-লাইট’ এড়িয়ে চলা জরুরি। সামান্য আলোও শরীরে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে বাধা সৃষ্টি করে। অথচ এই মেলাটোনিন হরমোনই শরীরে যেকোনো টিউমার কোষের অযাচিত বৃদ্ধি ও বিভাজন রুখে দিতে সক্ষম।
৩. ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়া
২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা (বা ন্যূনতম ১০ ঘণ্টা) পেট খালি রাখার পরামর্শ দেন গবেষকরা। যেমন—রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করে পরদিন সকাল ৮টা বা ১০টায় নাস্তা করা। এই দীর্ঘ বিরতিতে শরীরে ‘অটো-ক্লিনিং’ (Autophagy) প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়, যার মাধ্যমে শরীর নিজে থেকেই জমে থাকা বিষাক্ত টক্সিন ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান ধ্বংস করে ফেলে।
৪. প্লাস্টিক ও নন-স্টিক পাত্র বর্জন
প্লাস্টিকের বোতল বা পাত্রে গরম খাবার খাওয়া এবং অতিরিক্ত নন-স্টিক বাসন ব্যবহারের অভ্যাস মারাত্মক বিপজ্জনক। এগুলোতে বিসফেনল-এ (BPA), থ্যালেট ও PFAS-এর মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে, যা হরমোনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে স্তন, জরায়ু, ডিম্বাশয় ও থাইরয়েড ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। প্লাস্টিকের পরিবর্তে লোহা, কাঁচ বা স্টেইনলেস স্টিলের পাত্র ব্যবহার সবচেয়ে নিরাপদ।
৫. মদ্যপান বা অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ
অ্যালকোহল শরীরে গিয়ে বিপাকীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘অ্যাসিটালডিহাইড’ নামের অত্যন্ত বিষাক্ত যৌগে পরিণত হয়, যা ডিএনএ ও প্রোটিনের মারাত্মক ক্ষতি করে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল রক্তে ইস্ট্রোজেন হরমোন বাড়িয়ে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ায়। অ্যালকোহল ত্যাগ করলে লিভার, মুখ, খাদ্যনালি ও কোলন ক্যানসার থেকে শরীরকে মুক্ত রাখা সহজ হয়।
এনএন/ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬







