মধ্যপ্রাচ্য

নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন নেতানিয়াহু, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে বাতিল

নেতানিয়াহু

তেল আবিব, ০৭ নভেম্বর-ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের আগের রাতে ইরানের বিরুদ্ধে বিশেষ সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, মোসাদপ্রধান রোমান গোফম্যান। তবে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্যের ভুলের কারণে এই পরিকল্পনার খবর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে যায়। পরে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপে অভিযানটি আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২।

শুক্রবার প্রচারিত এক প্রতিবেদনে চ্যানেলটি জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত ওই অভিযান নিয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, নির্বাচনের ঠিক আগে ইরানে সামরিক হামলা চালানো হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে নির্ধারিত সময়ে ইসরায়েলের নির্বাচন আয়োজনও অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল।

তবে এসব আপত্তি থাকার পরও অভিযানটির পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার ভুলের কারণে যুক্তরাষ্ট্র এই পরিকল্পনার কথা জানতে পারে। এরপর দ্রুত হস্তক্ষেপ করে ওয়াশিংটন অভিযানটি বন্ধ করে দেয়।

তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করেছিলেন যে ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা ছিল না।

এর আগে ২৫ অক্টোবর ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর আরেক প্রতিবেদনে নেতানিয়াহু ও দেশটির সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের মধ্যে বিরোধের কথা জানানো হয়েছিল।

ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। কিন্তু সেনাপ্রধান জামির এতে আপত্তি জানান। তার আশঙ্কা ছিল, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে। এ বিষয়ে আরও আলোচনা করার পাশাপাশি নেতানিয়াহুর কাছ থেকে লিখিত অনুমোদনও চেয়েছিলেন তিনি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

২৬ অক্টোবর চ্যানেল ১২ ও ১৩-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের প্রস্তাবিত সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করা নিরাপত্তা বিভাগের একমাত্র জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন জামির।

তবে নেতানিয়াহু এসব খবরকে ‘অর্থহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, সেনাপ্রধানের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ হয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা এগিয়ে চলছে। তবে নতুন করে ইরানে হামলা শুরু করার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

চ্যানেল ১২-এর আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আবার শুরু করতে ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছিলেন নেতানিয়াহু। তবে ট্রাম্প আপাতত তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য আরও সময় দিতে চান।

শুক্রবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, আমরা ইরানকে পরাজিত করেছি। ইরানের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে এবং আমরা খুব ভালো করছি।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা না গেলে ইসরায়েলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে থাকত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানকে ঘিরে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের কৌশলগত অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। একদিকে ইসরায়েল সামরিক চাপ অব্যাহত রাখতে চায়, অন্যদিকে ওয়াশিংটন আপাতত কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ দিতে আগ্রহী। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে এই দুই দেশের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং ইরানের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতির ওপর।

এস এম/ ০৭ নভেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language