ভারত ছাড়ার’ নির্দেশে সাময়িক স্বস্তি পেলেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান

দিল্লি,২৭ অক্টোবর-মার্কিন নাগরিকত্বধারী বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার সরকারি নির্দেশনার ওপর সাময়িক স্বস্তি দিয়েছেন আদালত। বোম্বে হাইকোর্টে এ নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে অভিনেতার করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, আগামী ২ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক বা বলপ্রয়োগমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ফলে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের আদেশ থেকে রেহাই পেয়েছেন ৪৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা।
ঘটনার সূত্রপাত ফরেনার্স আঞ্চলিক রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) জারি করা একটি নোটিশকে কেন্দ্র করে। ওই নোটিশে ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এফআরআরওর দাবি, গত ১০ অক্টোবর দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচির প্রতি সংহতি জানিয়ে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন ইমরান খান। ওই সমাবেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ (এসআইআর) কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবি করা হয়েছিল।
একজন মার্কিন নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও ইমরান খান ওই সমাবেশে অংশ নেওয়াকে ভারতীয় নিয়মের লঙ্ঘন উল্লেখ করে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন বিজেপি নেতা কিড়ীত সোমাইয়া। পরে পুলিশ অভিযোগটি এফআরআরওর কাছে পাঠায়। এর ভিত্তিতেই অভিবাসন ও বিদেশি আইন, ২০২৫-এর অধীনে অভিনেতাকে দেশ ছাড়ার নোটিশ দেয় সংস্থাটি।
উল্লেখ্য, এই আইনের ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ভারতের ভেতরে অবস্থানরত যেকোনো বিদেশি নাগরিকের প্রবেশ, অবস্থান ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সীমিত কিংবা নিষিদ্ধ করার পূর্ণ ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের রয়েছে।
গত ১৭ অক্টোবর এ আদেশের বিরুদ্ধে বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ইমরান খান। আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে তিনি দাবি করেন, তিনি ওই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেননি এবং আয়োজকদের সঙ্গেও তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল না। এফআরআরওর নোটিশকে তিনি সম্পূর্ণ ‘বেআইনি, স্বেচ্ছাচারী, বিকৃত এবং চরম পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন।
তবে রিট আবেদন করার পর এফআরআরওর পক্ষ থেকে ইমরান খানকে আরেকটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এতে কেন তার ওসিআই মর্যাদা বাতিল করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
আদালতের অন্তর্বর্তী নির্দেশনার ফলে আগামী ২ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ইমরান খানের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকবে প্রশাসন।
এস এম/ ২৭ অক্টোবর ২০২৬







