দেশ ছাড়ার শেষ নোটিশ: হাইকোর্টে বলিউড অভিনেতা ইমরান খান, ভাগ্যে কী ঘটছে কাল?

মুম্বাই, ২৬ অক্টোবর – ভারতে থাকা নিয়ে মারাত্মক আইনি জটিলতা ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। ভারত সরকারের দেয়া আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার কড়া নির্দেশনার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালাতে বম্বে হাইকোর্টের (Bombay High Court) দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
কথা ছিল সোমবার (২৬ অক্টোবর) এই রিট আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। তবে শেষ মুহূর্তে আদালতের শুনানি পিছিয়ে আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে দেশ ছাড়ার বেঁধে দেওয়া আলটিমেটাম শেষ হওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে আদালতের চড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভর করছে অভিনেতার ভারতে থাকার ভাগ্য।
কেন দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলো?
মূলত ইমরান খান একজন মার্কিন নাগরিক (US Citizen) হলেও দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বাস করছেন এবং তাঁর কাছে ভারতের ‘ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া’ (OCI) কার্ড রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ অক্টোবর। ওই দিন মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজিত হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে চলা ওই আন্দোলনের স্থান থেকে পুলিশ ইমরান খানকে সাময়িকভাবে আটক করে। এরপরই তাঁকে ভারতের ফরেনার্স আঞ্চলিক রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO) থেকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়।
আদালতের কাছে ইমরান খানের দাবি
দেশ ছাড়ার আদেশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বম্বে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন অভিনেতা। আদালতে দেওয়া আবেদনে তিনি দাবি করেন:
কোনো সম্পৃক্ততা নেই: ওই রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজক বা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি সেই কর্মসূচিতে অংশ নেননি।
আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগহীনতা: কোনো সুনির্দিষ্ট এবং যৌক্তিক কারণ দর্শানো ছাড়াই তাঁকে হঠাৎ দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য বিন্দুমাত্র সময় বা সুযোগ তাঁকে দেওয়া হয়নি।
আজ মঙ্গলবার বম্বে হাইকোর্ট যদি অভিনেতার পক্ষে স্থগিতাদেশ জারি না করে, তবে আগামীকাল বুধবরের (২৮ অক্টোবর) মধ্যেই তাঁকে ভারত ছাড়তে হতে পারে। পুরো বলিউড মহল এখন বম্বে হাইকোর্টের নির্দেশের দিকে চোখ রাখছে।
এনএন/ ২৬ অক্টোবর ২০২৬







