উত্তর আমেরিকা

হাবার্ডের মুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করায় এবিসি সাংবাদিককে ‘বোকা’ বললেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ওয়াশিংটন, ২২ অক্টোবর- রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্ন শুনে মেজাজ হারিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবিসি নিউজের ওই সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন, মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডের মুক্তির বিনিময়ে রাশিয়াকে কোনো সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না। প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সাংবাদিককে ‘বোকা’ বলে ভর্ৎসনা করেন।

গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনা ঘটে। এর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়েছে। সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প পাল্টা জানতে চান, ‘আপনি কি বোকা? আপনি কোথায় কাজ করেন?’ সাংবাদিক এবিসি নিউজের নাম বললে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি বোকা। আর আপনার নেটওয়ার্ক সবচেয়ে খারাপ।’ এরপরও সাংবাদিক মূল প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে ট্রাম্প তা এড়িয়ে যান।

ঘটনার আগের দিন, গত রোববার রাশিয়া স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দেয়। গত দুই মাসের মধ্যে রাশিয়ার কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া দ্বিতীয় মার্কিন নাগরিক তিনি।

৭৪ বছর বয়সী হাবার্ড মিশিগানের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর হাতে আটক হন তিনি। ইউক্রেনের পক্ষে ‘ভাড়াটে সৈন্য’ হিসেবে কাজ করার অভিযোগে গত অক্টোবরে রাশিয়ার একটি আদালত তাঁকে প্রায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেন।

সম্প্রতি মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর পরপরই হাবার্ডের মুক্তির ঘোষণা আসে। ক্রেমলিন জানিয়েছে, মানবিক কারণে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

তবে ট্রাম্প শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, হাবার্ডের মুক্তির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়াকে কিছুই দেয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি সম্মান দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো কিছু দিতে বলা হয়নি, যা রাশিয়ার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন ঘটনা। হাবার্ডের মুক্তির জন্য কোনো ‘বিনিময়’ প্রয়োজন হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন। এর মাধ্যমে রাশিয়ার ওপর আরোপ করা যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রুশ পণ্যের ওপর এবং রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতাদের ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়টিও ছিল। হোয়াইট হাউসের দাবি, এসব নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে পারে।

এস এম/ ২২ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language