আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে পতন: তেলের আগুনে উত্তপ্ত বাজার ও ফেডের সিদ্ধান্ত নিয়ে তোলপাড়

ওয়াশিংটন, ২০ অক্টোবর – বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি নিয়ে চরম উদ্বেগের মাঝে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে কমেছে মূল্যবান ধাতু সোনার দাম। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ (ফেড)-এর আসন্ন নীতিনির্ধারণী বৈঠক ঘিরে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের কারণেই বাজারে এই মন্দাভাব দেখা যাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টা ৯ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোনার দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,১২৩.৯৪ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য নির্ধারিত সোনার দাম ০.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪,১৪২.৭০ ডলারে থিতু হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া নতুন ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর বাড়িয়ে দিয়েছে, যা সার্বিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিচ্ছে।
তেলের দর বৃদ্ধি ও হামলা: ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দ্বারা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং পারস্য উপসাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজে আকস্মিক হামলার খবরের পর ক্রুডের দাম প্রায় ৫ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
কঠোর মুদ্রানীতির চাপ: বিশ্বখ্যাত বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ‘অ্যাকটিভট্রেডসের’ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা জানান, উচ্চ জ্বালানি মূল্যের প্রভাবে বাজারে মূল্যস্ফীতির স্থায়ী চাপ অব্যাহত রয়েছে। আর এই কারণে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেড, আরও কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করতে পারে—এমন প্রত্যাশা জোরালো হচ্ছে।
ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠক ও সোনার সমীকরণ
সাধারণত মূল্যস্ফীতি থেকে আর্থিক সুরক্ষা (Hedge) পেতে বিনিয়োগকারীরা সোনাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নেন। তবে ব্যাংকগুলো যখন সুদের হার বাড়ায় বা উঁচুতে রাখে, তখন সোনার মতো অ-সুদভিত্তিক সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায় এবং বিনিয়োগকারীরা বন্ড বা ফিক্সড ডিপোজিটের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেন।
অক্টোবর বনাম ডিসেম্বর পূর্বাভাস:
বাজার বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের নীতি বৈঠকে ফেড হয়তো সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। তবে সিএমই (CME) ফেডওয়াচ টুলের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ বলে মনে করছেন শীর্ষ ব্যবসায়ীরা।
বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের মূল নজর আগামী সপ্তাহে প্রকাশ হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক (PCE)-এর ওপর, যা ফেডের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত বোঝার ক্ষেত্রে মূল নির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।
জাপানের বার্তা ও অন্যান্য ধাতুর দরপতন
আন্তর্জাতিক বাজারে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর কাজুও উয়েদার মন্তব্যও প্রভাব ফেলেছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, দেশটিতে অন্তর্নিহিত মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বেশ কাছাকাছি পৌঁছেছে—যার ফলে জাপানেও সুদের হার বৃদ্ধির পথ উন্মুক্ত হচ্ছে।
সার্বিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং তার প্রভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার শঙ্কাই বিশ্ববাজারে আপাতত সোনার ওপর চাপ বজায় রেখেছে।
এনএন/ ২০ অক্টোবর ২০২৬







