ট্রাম্পের অভিযোগ, ম্যাক্রোঁর অভিবাসননীতির কারণে ফ্রান্সে অস্থিরতা

ওয়াশিংটন, ২০ অক্টোবর-ফ্রান্সে চলমান সহিংসতা ও দাঙ্গার জন্য দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর অভিবাসননীতিকে দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্পের পরামর্শ শুনলে ফ্রান্সের এই বিশৃঙ্খলা এড়ানো সম্ভব হতো।
হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, প্যারিস খুব দ্রুতই একটি মুসলিম শহরে পরিণত হতে যাচ্ছে, যদিও এমনটা হওয়ার কথা ছিল না।
তিনি অভিযোগ করেন, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে অভিবাসীদের প্রবেশের কারণে ফ্রান্সের রাজধানীর জনসংখ্যার গঠনে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে।
ম্যাক্রোঁকে নিজের বন্ধু উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি অনেক আগেই ম্যাক্রোঁকে বলেছিলেন যে ফ্রান্সে তিনি বড় ধরনের ভুল করছেন। বিশ্বের সব জায়গা থেকে মানুষকে ফ্রান্সে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, মনে হচ্ছিল পুরো বিশ্বই সেখানে চলে আসছিল। তাঁর দাবি, পরিস্থিতি এমনভাবে চলতে থাকায় প্যারিস খুব দ্রুতই একটি মুসলিম শহরে পরিণত হতে যাচ্ছে, যা হওয়ার কথা ছিল না।
ফ্রান্সে কয়েক সপ্তাহ আগে বিক্ষোভ শুরু হয়। শিক্ষকসংকট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোর অবনতিশীল অবস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অস্বচ্ছ পদ্ধতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। পরে শ্রমিক ইউনিয়নগুলোও এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায়। তাদের দাবির মধ্যে ছিল পণ্যমূল্য কমানো, পেনশন বাড়ানো এবং মজুরি বৃদ্ধি করা।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক বিভিন্ন অসন্তোষের কারণে বিক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয় এবং বিভিন্ন জায়গায় লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় একটি ঐতিহাসিক টাউন হল আগুনে পুড়ে যায় এবং ১ হাজার ৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে রাতের বেলায় কারফিউ জারি করে কর্তৃপক্ষ। এসব এলাকার মধ্যে প্যারিসের কিছু এলাকাও রয়েছে।
এস এম/ ২০ অক্টোবর ২০২৬







