উত্তর আমেরিকা

টেসলার মুনাফা ৪৪% কমেছে, স্পেসএক্সের সঙ্গে একীভূত হওয়ার আলোচনা শুরু

স্পেসএক্সের সঙ্গে টেসলা

ওয়াশিংটন, ২২ অক্টোবর- যুক্তরাষ্ট্রের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফা ৪৪ শতাংশ কমেছে। তবে এ সময় প্রতিষ্ঠানটির নগদ অর্থপ্রবাহ বেড়েছে। এরই মধ্যে ইলন মাস্কের আরেক প্রতিষ্ঠান মহাকাশযান নির্মাতা স্পেসএক্সের সঙ্গে টেসলাকে একীভূত করার সম্ভাবনা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আলাদা বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তবে দুই প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। টেসলার প্রকাশিত আর্থিক ফলাফল অনুযায়ী, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা হয়েছে ৭৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এ সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২২ সেন্টে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা কমেছে ৪৪ শতাংশ। তবে বিশেষ কিছু ব্যয় হিসাবের বাইরে রাখলে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৪৮ সেন্ট, যা ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়ে ৩ সেন্ট বেশি।

এ সময়ে টেসলার আয় প্রায় অপরিবর্তিত থেকে ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে এ আয় বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার তুলনায় সামান্য কম। অন্যদিকে, ব্যবসা পরিচালনা ও প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫০ কোটি ডলারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগের কারণে এ প্রান্তিকে টেসলার নগদ অর্থের ঘাটতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন বিশ্লেষকেরা। সেই বিবেচনায় নগদ অর্থপ্রবাহ বেড়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটির জন্য ইতিবাচক বিষয়।

টেসলার মূলধনি ব্যয়ও বেড়েছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এ খাতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় হয়েছে ৪৭০ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ। তবে বিশ্লেষকেরা এর চেয়েও বেশি ব্যয় হবে বলে ধারণা করেছিলেন। এ পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের মূলধনি ব্যয়ের পূর্বাভাস ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার থেকে কমিয়ে ২ হাজার কোটি ডলার করেছে টেসলা।

এদিকে, টেসলা ও স্পেসএক্সকে একীভূত করার সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। স্পেসএক্সের আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর এক সম্মেলনে ইলন মাস্ক জানান, দুই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ এ বিষয়ে আলোচনার জন্য আলাদা বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। তবে এ ধরনের চুক্তি সম্পন্ন করার পথে বেশ কিছু বাধা রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি। টেসলার আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর আয়বিষয়ক সম্মেলনে সম্ভাব্য একীভূতকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে রাজি হননি মাস্ক।

টেসলা ও স্পেসএক্সের ব্যবসার ধরন আলাদা হলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চিপ তৈরি, রোবট এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে তাদের মধ্যে কোনো চুক্তির শর্ত চূড়ান্ত হয়েছে, এমন তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

গাড়ি বিক্রির পাশাপাশি চালককে সহায়তা করার প্রযুক্তিও টেসলার আয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, উত্তর আমেরিকায় বিক্রি হওয়া তাদের গাড়ির ৭৫ শতাংশের সঙ্গে ‘ফুল সেলফ-ড্রাইভিং (সুপারভাইজড)’ সফটওয়্যারের সাবস্ক্রিপশন ছিল। তবে নামের মধ্যে ‘সেলফ-ড্রাইভিং’ থাকলেও এ প্রযুক্তি ব্যবহারের সময় চালককে সতর্ক থাকতে হয় এবং প্রয়োজনে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়।

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে টেসলার গাড়ি বিক্রি থেকে মুনাফার হারও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে। প্রতি এক ডলারের গাড়ি বিক্রিতে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা হয়েছে ১৮ দশমিক ১ সেন্ট। এর আগে টেসলা জানিয়েছিল, এ প্রান্তিকে তারা প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার গাড়ি বিক্রি করেছে।

নিয়মিত লেনদেনের সময় বাজারে টেসলার শেয়ারের দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়লেও আর্থিক ফলাফল প্রকাশের পর লেনদেন-পরবর্তী সময়ে তা ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে যায়। মুনাফা কমে যাওয়া, ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের গতি এবং স্পেসএক্সের সঙ্গে সম্ভাব্য একীভূতকরণ—সব মিলিয়ে টেসলার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সামনে এখন মিশ্র চিত্র তৈরি হয়েছে।

এস এম/ ২২ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language