ইউরোপ

ট্রাম্পের ‘বলির পাঠা’ প্রশ্নে জেলেনস্কির মুচকি হাসি ও নীরবতা: ট্রাম্প-জেলেনস্কি সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা

কিয়েভ, ১৭ অক্টোবর – মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি নিজের ঘরোয়া রাজনৈতিক চাপ ও সংকট থেকে বিশ্ববাসীর নজর ঘোরাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ‘বলির পাঠা’ (Scapegoat) বানাচ্ছেন?

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ সম্মেলন শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিকের এমন সরাসরি প্রশ্নের জবাবে মুখে কিচ্ছু না বলে শুধু মুচকি হেসে নীরব থাকেন ভলোদিমির জেলেনস্কি। এরপর তিনি অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে বলেন—”আপনার প্রশ্নের ক্ষেত্রে এটাই (আমার এই হাসিটাই) আমার উত্তর।”

তাঁর এই অনন্য ও কূটনৈতিক জবাব শুনে সংবাদ সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে।

সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন (Midterm Elections), জ্বালানি সংকট/ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং ইরান সংকট প্রসঙ্গে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক চাপের কথা উত্থাপন করেন। ওই পরিস্থিতির মুখে ট্রাম্প ক্রমাগত জেলেনস্কির সমালোচনা করছেন কি না, তা জানতে চাওয়া হয়।

সম্প্রতি ট্রাম্প প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন যে— “রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কাজ করা জেলেনস্কির তুলনায় সহজ।”

ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে জেলেনস্কির পাল্টা চুক্তি ও যুক্তি

ট্রাম্পের ওই বিতর্কিত মন্তব্যের পরোক্ষ জবাব দিতে গিয়ে জেলেনস্কি সংবাদ সম্মেলনে রাশিয়ার সাম্প্রতিক ভয়াবহ ড্রোন হামলার চিত্র তুলে ধরেন:

১,০০০ ড্রোন হামলা: জেলেনস্কি বলেন, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মাত্র এক রাতেই ইউক্রেনের ওপর রাশিয়া এক হাজারেরও বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

মার্কিন অবস্থানের বৈপরীত্য: তিনি ক্ষোভের সুরে উল্লেখ করেন, একদিকে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ ও অবকাঠামোর ওপর শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করা হচ্ছে, অথচ অন্য দিকে মার্কিন শীর্ষ পর্যায় থেকে বলা হচ্ছে—জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলা কঠিন, তবে পুতিনের সঙ্গে কাজ করা সহজ!

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ

আন্তর্জাতিক রাজকূটনীতিকদের মতে, সরাসরি ট্রাম্পের রাজনৈতিক সমালোচনা না করে কৌশলগতভাবে শুধু ‘হাসি’ দিয়ে উত্তর এড়িয়ে গেলেও জেলেনস্কির ওই ভঙ্গি ও তৎপরবর্তী মন্তব্য ওয়াশিংটন ও কিয়েভের গভীর সম্পর্কের ফাটলকেই স্পষ্ট করে তুলেছে। ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে আগামী দিনে ইউক্রেনে মার্কিন সামরিক ও আর্থিক সহযোগিতা কতোটা বজায় থাকে, সেদিকেই এখন নজর পুরো বিশ্বের।

এনএন/ ১৭ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language