ইউরোপ

জার্মানিতে রোবটের বিরুদ্ধে কিশোরীকে ‘যৌন হয়রানি’র অভিযোগ: জব্দ রোবট ও মোবাইল

বার্লিন, ১৪ অক্টোবর – জার্মানির ঐতিহ্যবাহী কোলোন (Cologne) শহরে ঘটে গেছে এক বিশ্বঝাঁকুনি দেওয়া অবিশ্বাস্য ঘটনা! রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে যৌন হয়রানি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে একটি হিউম্যানয়েড (মানুষের মতো দেখতে) রোবটের বিরুদ্ধে। তবে এটি রোবটের নিজস্ব কোনো অ্যালগরিদম ছিল, নাকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সস্তা ভিউ ও লাইকের আশায় সাজানো প্র্যাঙ্ক ছিল—তা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা ইউরোপজুড়ে।

পুলিশ ইতোমধ্যেই নজিরবিহীনভাবে অভিযুক্ত ১২০ সেন্টিমিটার উচ্চতার রোবটটিকে হাতেনাতে জব্দ করার পাশাপাশি দুই কিশোর-তরুণের স্মার্টফোন বাজেয়াপ্ত করেছে।

কী ঘটেছিল সেদিন মধ্যরাতে?

জার্মানির নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া পুলিশের প্রকাশিত ফেসবুক বিবরণী থেকে প্রাপ্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য:

ফাস্টফুডের দোকানের সামনে মধ্যরাতের তাণ্ডব: শনিবার গভীর রাতে কোলোন শহরের ব্যস্ত কেন্দ্রস্থলে বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে ছিল ১৬ বছরের ওই কিশোরী। ঠিক তখনই একটি সাজানো-গোছানো রোবট পেছন দিক থেকে ধীরে ধীরে মেয়েটির দিকে এগিয়ে আসে।

অযাচিত স্পর্শ ও আতঙ্ক: অভিযোগমতে, রোবটটি হুট করেই কিশোরীর নিতম্বে হাত দেয় এবং আপত্তিজনক ভঙ্গিতে তাকে ধাক্কা দেওয়ার মতো নড়াচড়া (Thrusting motion) করতে থাকে। আতঙ্কে চিৎকার করে সরে যায় ভুক্তভোগী কিশোরী।

লাইভ স্ট্রিমিং ও গাড়িতে লোকানোর চেষ্টা: জরুরি ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলের মাত্র এক ব্লক দূরে পুলিশ পৌঁছে এক ১৬ বছর বয়সী কিশোর (রোবটটির মালিক) ও তার ১৯ বছর বয়সী সঙ্গীকে খুঁজে পায়। দেখা যায়, একটি ভক্সওয়াগেন গাড়ির ট্রাঙ্কে রোবটটি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। রোবটটির গায়ে ছিল কৃত্রিম কালো গোঁফ, সোনালি চেইন ও সাদা ভেস্ট। অভিযোগ উঠেছে, পুরো ঘটনাটি টিকটক/সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচার হচ্ছিল এবং তারা বিষয়টি নিয়ে ঠাট্টা করছিলেন।

কোলোন পুলিশের স্পষ্ট বক্তব্য: “ঘটনাটি ইচ্ছাকৃতভাবে রিমোট দিয়ে ঘটিয়ে ভিডিও তৈরি করা হচ্ছিল নাকি রোবটের নিজস্ব প্রোগ্রামের ত্রুটি ছিল, তা বের করতে পুলিশ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন।”

সোশ্যাল মিডিয়া ট্রোলিং নিয়ে পুলিশের কড়া হুঁশিয়ারি

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে নেটদুনিয়ায় কিশোরী ও রোবট নিয়ে নানামুখী ঠাট্টা-মজা ও কটূক্তি শুরু হয়। বিষয়টি নজর এড়ায়নি জার্মানি পুলিশের। পরবর্তীতে নতুন ফেসবুক পোস্টে প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে—অনলাইনে ভুক্তভোগীকে নিয়ে উপহাস করা বা অশালীন মন্তব্য করা ‘সীমা লঙ্ঘন’ এবং এটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

ভবিষ্যৎ বিচারব্যবস্থায় নতুন প্রশ্ন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও রোবোটিক্স প্রযুক্তির এই যুগে ‘যন্ত্র নাকি চালক—অপরাধী কে?’—এমন প্রশ্ন এখন আইনের নতুন এক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তবে প্র্যাঙ্কের নামে নারীর সম্মানহানি যে কোনো প্রযুক্তির মাধ্যমেই বরদাশত করা হবে না, সেই বার্তাই দিল জার্মান পুলিশ।

এনএন/ ১৪ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language