মধ্যপ্রাচ্য

ট্রাম্পের তোপ ও সিউলের উভয়সংকট: মধ্যপ্রাচ্যে কি যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া?

তেহরান, ১৬ অক্টোবর – ইরানের সাথে আমেরিকার ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাতের উত্তাপ এবার আছড়ে পড়ল দূরপ্রাচ্যে। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে সহায়তার জন্য অন্যতম প্রধান এশীয় মিত্র দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে সামরিক সহযোগিতা চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে না নেমে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ সুরক্ষার অজুহাতে মাঝপথের একটি কৌশলগত রাস্তা খুঁজছে সিউল।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রভাবশালী দৈনিক ‘কিউংহিয়াং শিনমুন’-এর বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের চাহিদার মুখে নিজেদের স্পেশাল নেভাল ফোর্সেস ‘চেওংহে ইউনিট’ (Cheonghae Unit)-এর মিশন এলাকা ও সমরাস্ত্র বহর সম্প্রসারণের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে সিউল সরকার।

ঘটনার ব্যবচ্ছেদ: ট্রাম্পের অসন্তোষ ও ওমান উপসাগরে সিউলের নতুন ছক

ট্রাম্পের অসন্তোষ ও যৌথ মহড়া হ্রাস: সম্প্রতি ইরান সংঘাত ইস্যুতে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সহায়তাকে প্রকাশ্যে ‘অপর্যাপ্ত’ বলে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কেবল তা-ই নয়, সিউলকে চাপে ফেলতে দুই দেশের পূর্বনির্ধারিত যৌথ সামরিক মহড়াও কাটছাঁট করা হয়, যা ওয়াশিংটন-সিউল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বেশ টানাপোড়েন তৈরি করেছে।

ওমান উপসাগরে পরিধি বিস্তার: ২০০৯ সাল থেকে সোমালিয়ার এডেন উপসাগরে জলদস্যু দমনে কাজ করছে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘চেওংহে ইউনিট’। এখন সিউল এই বাহিনীর কাজের পরিধি অত্যন্ত কৌশলগত ও হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত ওমান উপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া ওই অঞ্চলে একটি ফ্রিগেট (যুদ্ধজাহাজ) ও সামুদ্রিক টহল বিমান মোতায়েনের বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট লি-র কূটনৈতিক ব্যালেন্স: প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং পূর্বেই স্পষ্ট করে বলেছিলেন যে, সিউল এমন কিছু করবে না যা তাদের সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে। তবে বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষায় পরোক্ষ ভূমিকা রাখা যায় কি না, তা নিয়ে নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছে তার প্রশাসন।

“এডেন উপসাগরে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবক্ষয় ঘটছে এবং জলদস্যুদের তৎপরতা বহুগুণ বেড়েছে। তবে মিশন সম্প্রসারণ বা যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো ঝুলে রয়েছে।” — দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

‘চেওংহে ইউনিট’-এর বর্তমান সামরিক শক্তি

দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম ওয়াইটিএন (YTN)-এর তথ্য অনুযায়ী, চেওংহে ইউনিটে বর্তমানের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

  • ৪,৪০০ টন ওজনের একটি অত্যাধুনিক ডেস্ট্রয়ার (DDH-II ক্লাস যুদ্ধজাহাজ)
  • একটি লড়াকু সামুদ্রিক হেলিকপ্টার
  • ৩টি রিজিড-হাল ইনফ্ল্যাটেবল স্পিডবোট
  • প্রায় ৩০০ জন চৌকস সামরিক সদস্য

চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই চেওংহে ইউনিটের বিদ্যমান মেয়াদের সামাপ্তি ঘটবে। তাই প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং প্রশাসন পার্লামেন্টে এই ইউনিটের কাজের পরিধি ও মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করার নতুন প্রস্তাব পেশ করতে যাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিশ্বরাজনীতিতে প্রতিক্রিয়া

ফেসবুক, এক্স (টুইটার) ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্ব বিশ্লেষকদের মধ্যে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং ইরানি ড্রোন ও মিসাইল হামলার ঝুঁকির মাঝে সিউল যেভাবে দড়ি টানাটানি খেলছে, তা তাদের কূটনীতির বড় এক পরীক্ষা। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন সংবেদনশীল জলসীমায় দক্ষিণ কোরিয়ার এই সম্ভাব্য নৌ-উপস্থিতি মার্কিন-ইরান দ্বন্দ্বকে কোন নতুন মাত্রা দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়!

এনএন/ ১৬ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language