দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: মৃত্যু ১,১৮৬ ছাড়াল, হাসপাতালে নতুন আক্রান্ত ১২১০ জন

ঢাকা,, ১৬ অক্টোবর – দেশে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে মহামারী সমতুল্য হাম ও হামের উপসর্গের তাণ্ডব। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ৫ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৮২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে নিহতের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,১৮৬ জনে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে প্রকাশ করা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
বিভাগভিত্তিক চিত্রে ঢাকার বিপর্যয়: ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি ১২১০ জন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২১০ জন রোগী।
গত ২৪ ঘণ্টার বিভাগভিত্তিক রোগী ভর্তির চিত্র:
- ঢাকা বিভাগ: ৪৮০ জন (সর্বোচ্চ আক্রান্ত)
- চট্টগ্রাম বিভাগ: ২৭৭ জন
- সিলেট বিভাগ: ১৩৬ জন
- খুলনা বিভাগ: ১০৭ জন
- বরিশাল বিভাগ: ১০৮ জন
- ময়মনসিংহ বিভাগ: ৭০ জন
- রাজশাহী বিভাগ: ২৫ জন
- রংপুর বিভাগ: ৭ জন
হাম প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও ধারাবাহিক স্বাস্থ্য তদারকি ও প্রতিষেধক কর্মসূচির ঘাটতির কারণে আক্রান্তের সংখ্যা হু-হু করে বাড়ছে। বিশেষ করে শিশুরা চরম ঝুঁকির মুখে।” — জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।
পরিসংখ্যানের ভয়াল রূপ: মোট আক্রান্ত ও ছাড়পত্রের চিত্র
- মোট উপসর্গযুক্ত ভর্তি রোগী: ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬১৫ জন (১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত)।
- হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা: ১ লাখ ৮০ হাজার ২ জন।
- সন্দেহজনক মোট হাম রোগী: ২ লাখ ১১ হাজার ৪০ জন।
- পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগী: ২২ হাজার ৯৭২ জন।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জরুরি পরামর্শ
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসকরা নাগরিকদের নিম্নলিখিত সতর্কতা অবলম্বন করার আকুল আবেদন জানিয়েছেন:
লক্ষণ চেনা: শিশুদের শরীরে তীব্র জ্বর, লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ, কাশি ও চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
টিকাদান নিশ্চিতকরণ: শিশুদের যথাসময়ে হাম ও রুবেলা (MR) টিকা প্রদান নিশ্চিত করা জরুরি।
আইসোলেশন বা পৃথক রাখা: আক্রান্ত রোগীকে ঘরের অন্যান্য সদস্য, বিশেষ করে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা স্থানে চিকিৎসাধীন রাখতে হবে।
জনস্বাস্থ্যের এই সংকট মোকাবিলায় অবিলম্বে নিবিড় টিকাদান ক্যাম্পেইন জোরদার ও আক্রান্ত জেলাগুলোতে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞরা।
এনএন/ ১৬ অক্টোবর ২০২৬







