লন্ডনে কোকেন সেবনের পর সন্তানকে নিয়ে অচেতন, শিশু অবহেলার দায় স্বীকার করলেন আমিরাতের রাজবধূ

আবুধাবি,১৬ অক্টোবর-অতিরিক্ত মাত্রায় কোকেন সেবনের পর নিজের ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে লন্ডনের রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) এক রাজবধূকে। ৩২ বছর বয়সী ওই রাজবধূর নাম মেহরা আল নাহিয়ান।
‘এ’ শ্রেণিভুক্ত মাদক কোকেন সেবনের পর পশ্চিম লন্ডনের একটি রাস্তায় তিনি অচেতন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তাঁর কাছেই খালি পায়ে খেলছিল তিন বছরের সন্তান। কিছুটা দূরে আরেকজন পুরুষকেও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিয়ের সূত্রে মেহরা সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজপরিবারের সদস্য।
এ ঘটনায় লন্ডনের সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে একটি মামলা হয়। গত মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে শিশুর প্রতি অবহেলার অভিযোগ স্বীকার করেন মেহরা।
আদালতে জানানো হয়, গত ১৩ জুন পথচারীরা রাজবধূ মেহরাকে রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
‘দ্য টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাত পৌনে ২টায় পুলিশ পৌঁছানোর আগপর্যন্ত স্থানীয় পথচারীরা শিশুটির দেখাশোনা করেন। প্রায় ৩০ মিনিট অচেতন ছিলেন মেহরা। জ্ঞান ফেরার পর তিনি বলে ওঠেন, ‘এটা তো কোনো কসাইখানা নয়, আপনারা কেন এত চিন্তা করছেন? আপনাদের এত মাথাব্যথা কিসের?’
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গ্রিলে হেলান দিয়ে মাথা নিচু করে বসে আছেন মেহরা। তিনি ব্রিটেনে প্রতি মাসে ৮ হাজার পাউন্ড সরকারি ভাতা পান।
মামলার এক কৌঁসুলি আদালতে বলেন, শিশুটিকে অভিভাবকহীন অবস্থায় খালি পায়ে রাস্তায় ঘুরতে দেখেন পথচারীরা। একপর্যায়ে শিশুটি দ্রুতগতির যানবাহনের কাছাকাছি চলে যায়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় পথচারীরা এগিয়ে আসেন।
মেহরা আল নাহিয়ানকে তল্লাশি করে মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেলেও কোনো অবৈধ মাদক পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনার পর তাঁকে একটি মাদক নিরাময় ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
মেহরার পক্ষের আইনজীবী স্টিফেন ভুলো কেসি জানান, যেদিন তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়, সেদিন তিনি মাদক সেবন করেননি। তবে এর আগের কয়েক দিন কোকেন সেবন করায় তিনি খুব ক্লান্ত ছিলেন।
স্টিফেন আরও বলেন, নিজের ভুলের জন্য মেহরা গভীরভাবে অনুতপ্ত এবং মাদকাসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সেদিন তিনি যে মারাত্মক ভুল করেছিলেন, তা এখন বুঝতে পারছেন।
মামলার বিচারক জাস্টিস জনসন কেসি পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘পথচারীরা যদি সময়মতো এগিয়ে না আসতেন, তবে শিশুটির গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা তার চেয়েও খারাপ কিছু ঘটে যেতে পারত। শিশুটি হয়তো হারিয়ে যেত, কোনো অপরিচিত ব্যক্তি তার ক্ষতি করতে পারত অথবা তাকে তুলে নিয়ে যেতে পারত। তা ছাড়া দুজনকে এভাবে অচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে শিশুটি মানসিকভাবে আতঙ্কগ্রস্ত হতে পারত।’
মেহরা আল নাহিয়ানকে দুই বছরের ‘কমিউনিটি অর্ডার’ বা কমিউনিটি সেবা দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাঁকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁকে ৬ হাজার ১১৪ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে।
এস এম/ ১৬ অক্টোবর ২০২৬







