ফারাক্কা চুক্তি নবায়নে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে বন্ধুত্বের নজির রাখবে ভারত, আশা প্রতিমন্ত্রীর

ঢাকা,১৬ অক্টোবর-শুকনো মৌসুমে পদ্মা নদীতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ভারত বন্ধুত্বের পরিচয় দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার কুঠিপাড়া এলাকায় পদ্মা নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।
ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আগামী ১২ ডিসেম্বর ভারতের সঙ্গে ফারাক্কা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আমরা এখন আগামী ১২ ডিসেম্বরকে লক্ষ্য ধরে কাজ করছি। কারণ, শুকনো মৌসুমে আমরা পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছি না। এ সময়ে আমাদের কমপক্ষে ৩০ হাজার কিউসেকের বেশি পানি পাওয়া উচিত। অথচ কোনো কোনো মাসে পানির পরিমাণ ৫ হাজার কিউসেক পর্যন্তও নেমে এসেছে।’
তিনি বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় দুই দেশের কারিগরি দলের সদস্যরা প্রতিদিন পানির প্রবাহ পরিমাপ করেন। প্রতিবেশী দেশ অতীতের চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়াবে বলে আশা করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ফারাক্কা চুক্তি নবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নদী ও পানি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত জুনে কলকাতায় এ বিষয়ে একটি সভাও হয়েছে। পরে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল তিতুমীরের নেতৃত্বে আরেকটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।
ফরহাদ হোসেন বলেন, ভারতের নতুন হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। চুক্তি নবায়নের বিষয়ে তাঁকে বাংলাদেশের অবস্থান জানানো হয়েছে। হাইকমিশনার এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন এবং দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। হাইকমিশনার দেশে ফিরলে এ বিষয়ে অগ্রগতি জেনে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পদ্মার পানি নিয়ে ভারতের অতীতের বিভিন্ন ভূমিকা ও কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাবের পরিচয় দেবে এবং এসব প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেবে বলে তিনি আশা করেন।
এ সময় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাজশাহী-৩ আসনের এমপি শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক রুহুল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীর নওহাটা সেতু-সংলগ্ন এলাকায় বারনই নদী পরিদর্শন করেন। পরে নগরের শ্রীরামপুর টি-গ্রোয়েন পরিদর্শন করেন এবং কেন্দ্রীয় উদ্যান ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে গাছের চারা রোপণ করেন।
এস এম/ ১৬ অক্টোবর ২০২৬







