ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ডিজেলের দাম বাড়ছে, ইউরোপকে মজুদ ছাড়ার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের

ওয়াশিংটন, ০২ অক্টোবর- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ডিজেলের রেকর্ড দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের জরুরি ডিজেল মজুদ উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানানো হতে পারে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইউরোপীয় দেশগুলোকে দ্রুত তাদের মজুদ ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক পোস্টে বেসেন্ট বলেন, বর্তমান সরবরাহ ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে ইউরোপীয় সহযোগীদের উচিত তাদের আগের প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা এবং অতিরিক্ত সরবরাহ দ্রুত বাজারে ছেড়ে দেওয়া।
এর আগে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, বাজারে ডিজেলের সরবরাহ বাড়াতে জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সহযোগিতামূলক কৌশল তৈরি করবে। একইভাবে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, ইউরোপ যদি তাদের জরুরি ডিজেল রিজার্ভ ছেড়ে দেয়, তাহলে বিশ্ববাজারে তৈরি হওয়া আকাশচুম্বী দাম অনেকটাই সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।
ইতোমধ্যে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়ে প্রতি গ্যালন ৬.৫৩ ডলারে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইতালি, বেলজিয়াম, রোমানিয়া ও পোল্যান্ডসহ ইইউর ১২টি সদস্য দেশে ডিজেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের এমন নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের ডিজেল রপ্তানি সীমিত করার বিষয়টি ভাবতে বাধ্য করেছে।
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, পুরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের জরুরি ডিজেল মজুদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি রয়েছে ফ্রান্স ও জার্মানির হাতে। মার্কিন বাণিজ্যনীতি ও সম্ভাব্য রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ইইউ বাণিজ্য প্রধান মারোস সেফকোভিচ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হলে তা ইউরোপের অর্থনীতিতে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এস এম/ ০২ অক্টোবর ২০২৬







