কক্সবাজার থেকে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে সরাসরি ফ্লাইট চালাবে এয়ারএশিয়া

কক্সবাজার,০২ অক্টোবর- কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ঘিরে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সিভিল এভিয়েশন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) জানিয়েছেন, এভিয়েশন খাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে এয়ারএশিয়া কক্সবাজার থেকে মালয়েশিয়ার পেনাং রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছে। তবে এই পরিষেবা চালুর চূড়ান্ত তারিখ বা ফ্লাইটের সময়সূচি এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
সরকার আগামী অক্টোবর মাসেই বহুল প্রতীক্ষিত কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধনের পরিকল্পনা করেছে। উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি নেপালের কাঠমান্ডু, চীনের কুর্মিং এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গন্তব্যের সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর বিষয়টিও কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করছে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার আগেই একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার আওতায় কক্সবাজারের নতুন প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়েছে। ৩৬২.৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার আয়তনের এই আধুনিক টার্মিনালটি বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা ৭ লাখ ৩০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১৮ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিমানবন্দরের রানওয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ফলে এটিই বর্তমানে বাংলাদেশের দীর্ঘতম রানওয়ে এবং এর কারণে যেকোনো সুপ্রশস্ত (ওয়াইড-বডি) বিমান চলাচলের জন্য এটি পুরোপুরি উপযোগী হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত ও পর্যটন শহর কক্সবাজারের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে মূলত অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল ছিল। বিমানবন্দর সম্প্রসারণের প্রধান লক্ষ্য হলো ঢাকা হয়ে যাতায়াতের ঝামেলা কমিয়ে বিদেশি পর্যটকদের সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ তৈরি করা। এর ফলে কক্সবাজার এখন দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। তবে পর্যটন খাতের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, এই বড় বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করতে হলে এয়ারলাইনগুলোর স্থায়ী প্রতিশ্রুতি, প্রতিযোগিতামূলক বিমানবন্দর চার্জ এবং সামগ্রিক পর্যটন ব্যবস্থার মান উন্নয়ন জরুরি।
বাংলাদেশ এখন এভিয়েশনকে শুধু অর্থনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে দেখছে না, বরং এটিকে অন্যতম প্রধান কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করছে। জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২৫টি বোয়িং এবং ১০টি এয়ারবাস বিমান কেনার আলোচনা ও চুক্তির প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে লং-হল ও আঞ্চলিক রুটের জন্য মোট ৩৫টি নতুন বিমানের একটি বড় বহর তৈরি হতে পারে। এটি শুধু দেশের বিমান বহরের সক্ষমতা বাড়াবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতেও ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলছেন, কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে তৈরি হতে যাওয়া এভিয়েশন হাবের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। তবে কলকাতা, দিল্লি, কাঠমান্ডু, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিষ্ঠিত বিমানবন্দরগুলোর সঙ্গে এটিকে তীব্র প্রতিযোগিতায় পড়তে হবে। তারপরও সঠিক রুট পরিকল্পনা, কম পরিচালন ব্যয় এবং পর্যটন ও কার্গো পরিবহনের বড় সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে আঞ্চলিক আকাশপথে বাংলাদেশ নিজস্ব শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
এস এম/ ০২ অক্টোবর ২০২৬







