দক্ষিণ এশিয়া

মাঝআকাশে সহ-পাইলটের ছুরিকাঘাতে আহত প্রধান পাইলট, বাঁচলেন ১৭৪ যাত্রী

মাঝআকাশে সহ-পাইলটের ছুরিকাঘাতে আহত প্রধান পাইলট

দিল্লি,০১ অক্টোবর- মাঝআকাশে হঠাৎ তৈরি হলো ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি। ওমানি সহ-পাইলট হঠাৎ আক্রমণ চালিয়ে বসলেন প্রধান পাইলটকে এবং চেষ্টা করলেন বিমানটিকে দুর্ঘটনাকবলিত করার। কিন্তু মারাত্মক আহত অবস্থায় রক্তে ভেসে গিয়েও নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে ককপিটের দরজা খুলে দেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছার। আর এর মধ্য দিয়েই তিনি প্রাণ বাঁচালেন ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানের ১৭৪ জন যাত্রীর। অন্যদিকে, বিমানের এক চিকিৎসকের দ্রুত চিকিৎসায় বেঁচে গেছে খোদ ওই পাইলটের প্রাণও।

ঘটনাটি ঘটে ফ্লাইদুবাইয়ের ‘এফজেড ১০৭৩’ ফ্লাইটটিতে। ওমানি সহ-পাইলট যখন আচমকাই ভারতীয় পাইলটকে ছুরিকাঘাত করতে থাকেন, তখন বিমানে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এ সময় পরিস্থিতি অনুধাবন করে যে চারজন যাত্রী তৎক্ষণাৎ ককপিটের দিকে ছুটে যান, তাদেরই একজন ছিলেন ইসরায়েলি ডেন্টিস্ট মুসায়েভ শোতা। তিনি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াইনেট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই মুহূর্তগুলোর বিবরণ দিয়ে বলেন, আমি অপেক্ষা করিনি। আমি দেখলাম কোনো সমস্যা হচ্ছে এবং তখনই ককপিটের দিকে ছুটে যাই। তারা দ্রুত হামলাকারী সহ-পাইলটকে কাবু করে আটকে ফেলেন।

সহ-পাইলটকে আটক করার পর শোটাই প্রথম পাইলট স্মিত মাচ্ছারকে প্রাথমিক জরুরি চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শোতা জানান, পাইলট সারা শরীরে গভীর ক্ষতের শিকার হয়েছিলেন। রক্তে পুরো মেঝে ভেসে যাচ্ছিল। পাইলটের অবস্থা স্মরণ করে শোতা বলেন, তার মাথা এবং হাত মারাত্মকভাবে কেটে গিয়েছিল, যা প্রায় দুই খণ্ডে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, “তার অবস্থা খুবই মারাত্মক ছিল। হয়তো সংকটজনক নয়, তবে রক্তক্ষরণের কারণে অবস্থা সত্যিই জটিল হয়ে উঠেছিল।

মারাত্মক আহত এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ সত্ত্বেও ৩৯ বছর বয়সী ওই পাইলট পুরোটা সময় সচেতন ছিলেন। তিনি সেখানে উপস্থিত মানুষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছিলেন। শোতা ‘ওয়াইনেট’-কে জানান, ককপিটের মেঝেতে রক্তের মধ্যে পড়ে থাকা অবস্থাতেই আহত পাইলট তাদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তিনি তাদের জানান যে তার বয়স ৩৯ বছর এবং তার দুটি সন্তান রয়েছে। হামলাকারী সহ-পাইলট তাকে ছুরিকাঘাত করার সময় ক্রমাগত গালিগালাজ করছিল বলেও তিনি জানান। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-কে শোতা বলেন, আহত পাইলট পুরোটা সময় শুধু প্রার্থনা করছিলেন এবং আমার সাথে যোগাযোগ রাখছিলেন, আমার ভয় হচ্ছিল আমরা হয়তো তাকে সত্যিই হারিয়ে ফেলব।

বিমানে উপস্থিত এক ডাক্তারের তৎপরতা ও পাইলটের অদম্য মানসিক জোরের কারণে রক্তক্ষরণ সাময়িকভাবে বন্ধ করা সম্ভব হয়। শোতা জানান যে তিনি বিমানে একমাত্র চিকিৎসক ছিলেন এবং তিনি কোনোমতে রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে সমর্থ হন। জরুরি অবতরণের কিছু আগে পাইলটের শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি ঘটলেও অবতরণ পর্যন্ত তিনি স্থিতিশীল ছিলেন।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ফ্লাইটটি দ্রুত সৌদি আরবের তাবুক শহরে জরুরি অবতরণ করে। বিমানটি অবতরণের পরপরই স্থানীয় সৌদি মেডিকেল টিম আহত পাইলটকে চিকিৎসার জন্য নিজেদের দায়িত্বে নেয়। শোতা জানান, তিনি সৌদি চিকিৎসকদের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন যে আহত পাইলট প্রাণে বেঁচে গেছেন এবং তিনি আপাতত বিপদমুক্ত রয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে বিমানের মেঝেতে দুজনকে রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

এদিকে, রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং জেদ্দায় অবস্থিত ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেল এক যৌথ বার্তায় নিশ্চিত করেছে যে তারা ক্যাপ্টেন মচ্ছারের শারীরিক অবস্থার ওপর কড়া নজর রাখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে রিয়াদের ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, সৌদি আরবের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে মাচ্ছার ভর্তি আছেন এবং তাকে প্রয়োজনীয় সমস্ত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, তার স্বাস্থ্যের বিস্তারিত রিপোর্টের জন্য তারা অপেক্ষা করছেন, তবে প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।

এস এম/ ০১ অক্টোবর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language