গুরুতর আহত হয়েও যাত্রীদের বাঁচানো ভারতীয় পাইলটকে বীর বললেন মোদি

দিল্লি,০১ অক্টোবর- আকাশে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ও মানবিক ট্র্যাজেডি এড়িয়ে শতাধিক যাত্রীর প্রাণ রক্ষা করায় ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারকে বীর আখ্যা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
দুবাইভিত্তিক বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে সহ-পাইলট বিমানটি বিধ্বস্ত করার চেষ্টা করেন এবং তাকে বাধা দিতে গিয়ে গুরুতর আহত হন ক্যাপ্টেন মচ্ছার। এরপরও তিনি অদম্য সাহস দেখান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার একজন বীর। চরম বিপদের মুখে এবং গুরুতর আহত হওয়ার পরও তিনি অন্যদের জীবন রক্ষায় অসাধারণ সাহস ও দৃঢ় সংকল্প দেখিয়েছেন। তার সাহসিকতা শত শত জীবন বাঁচাতে এবং বড় ধরনের একটি ট্র্যাজেডি এড়াতে সাহায্য করেছে। ভারত ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের জন্য গর্বিত। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদি ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের দ্রুত সুস্থতা, নতুন শক্তি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেছেন।
সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মোদি ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের স্ত্রী ও বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে তার অসাধারণ সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দেন, ভারতীয় মিশনগুলো এই পরিবারকে সব ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতা দিচ্ছে। ভারতীয় নাগরিক ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার গত চার বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের মালিকানাধীন সাশ্রয়ী বিমান সংস্থা ফ্লাইদুবাইয়ে কাজ করছেন। এর আগে তিনি টানা ১০ বছর স্পাইসজেটে কাজ করেছেন। বোয়িং ৭৩৭ বিমানে ১৩ বছরের বেশি সময় ধরে বাণিজ্যিক বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। পেশাগত জীবনে ৯ হাজার ৭৫০ ঘণ্টারও বেশি সময় বিমান ওড়ানোর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মাচ্ছার একজন লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও মাচ্ছারের অসাধারণ সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারের অসাধারণ সাহস ও চমৎকার বিচক্ষণতা চরম বিপদের মুখেও গতকাল শত শত জীবন বাঁচিয়েছে এবং একটি বড় ট্র্যাজেডি এড়িয়েছে। তার বীরত্বকে সালাম জানাতে এবং তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য প্রার্থনা করতে বিশ্বজুড়ে কণ্ঠ মেলানো অসংখ্য মানুষের সঙ্গে আমিও যোগ দিচ্ছি।”
বুধবার সকালে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে উড্ডয়ন করা ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমানে সহ-পাইলট বিমানটি ধ্বংস করার চেষ্টা করেন এবং তাকে বাধা দিতে গেলে ক্যাপ্টেন মাচ্ছারকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ক্রুজিং অবস্থায় থাকাকালে এ ঘটনা ঘটে। হঠাৎ বিমানটি প্রতি মিনিটে প্রায় ২৩ হাজার ফুট বেগে নিচে নামতে শুরু করে এবং প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতায় নেমে আসে। তবে গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার সহ-পাইলটের হামলা প্রতিরোধ করেন এবং ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এতে যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা এসে হামলাকারীকে কাবু করতে পারেন। বিমানে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথম সারিতে থাকা কয়েকজন যাত্রী সামনে এগিয়ে এসে হামলাকারীকে ককপিট থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।
পরে বিমানের পেছনে থাকা আরও দুজন রিলিফ পাইলট ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করান। বিমানটি নিরাপদে অবতরণের পর ডেন্টিস্ট পেশার এক যাত্রী আহত ক্যাপ্টেনকে জীবন রক্ষাকারী প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। অবতরণের পর ক্যাপ্টেন ও হামলাকারী সহ-পাইলট দুজনকেই কাছের হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং যাত্রীদের বিমানবন্দর টার্মিনালে সেবা দেওয়া হয়। পরে যাত্রীরা নিরাপদে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে পৌঁছান।
এস এম/ ০১ অক্টোবর ২০২৬







