ইউরোপে হামলার কোনো ইচ্ছা বা কারণ রাশিয়ার নেই: ন্যাটোর আশঙ্কা উড়িয়ে দিলেন পুতিন

মস্কো, ২৬ সেপ্টেম্বর – ইউরোপীয় মহাদেশে রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক হামলা বা সংঘাতের বিস্তৃতি নিয়ে পশ্চিমা মিত্রদের ধারাবাহিক সতর্কবার্তার মাঝেই এক বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে সংঘাত বাড়ানোর মতো কোনো বাস্তব কারণ বা উদ্দেশ্য রাশিয়ার নেই এবং মস্কো ইউরোপের বিপক্ষে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতিও নিচ্ছে না।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) সেন্ট পিটার্সবার্গে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক ফোরাম (United Cultures Forum) চলাকালীন উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট পুতিন এই মন্তব্য করেন।
পুতিনের বক্তব্য ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ
১. ‘রাশিয়ার হামলার ভয় স্রেফ অজুহাত’
পুতিন অভিযোগ করেন, ন্যাটোর ইউরোপীয় সদস্যরা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে এবং ইউক্রেনকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার অব্যাহত রাখতে ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষের মনে রাশিয়ার হামলার ভীতি তৈরি করছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইউরোপের কোনো ভূখণ্ড লক্ষ্য করে আগ্রাসন চালানোর কোনো পরিকল্পনা বা যৌক্তিক কারণ ক্রেমলিনের নেই।
২. শান্তি আলোচনা পুনর্বিবেচনা ও কিয়েভের হামলা
ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পুতিন জানান, আলোচনার সমস্ত প্রস্তাব এখনো টেবিলে রয়ে গেছে। তবে গত সপ্তাহে রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের দিন কিয়েভ যেভাবে ড্রোন হামলা ও বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে আঘাত হেনেছে, তার তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবেই পুতিন বলেন—”তারা যা করেছে, তার পর আমরা নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও সতর্কতার সঙ্গেই নির্ধারণ করব আলোচনার টেবিলে কবে এবং কীভাবে ফিরে আসা যায়”।
৩. ইউরোপের গোপন নাশকতা ও ড্রোন আতঙ্ক
অপরদিকে ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মস্কোর এই আশ্বাসকে বেশ সংশয়ের সঙ্গেই দেখছে। সম্প্রতি জার্মানি দাবি করেছিল লাইপজিগ বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ড ও ড্রোন ষড়যন্ত্রের পেছনে রাশিয়ার গোপন গোয়েন্দা সংস্থা যুক্ত ছিল। পোল্যান্ডও সতর্ক করে বলেছিল যে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোতে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঢুকে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। পুতিন সরাসরি এই জাতীয় সব অভিযোগকে একপেশে উস্কানি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ
পুতিনের এই বক্তব্য একদিকে যেমন ইউরোপে চলমান যুদ্ধ আতঙ্ক কিছুটা কমানোর ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার পাল্টা হামলা আরও তীব্র হওয়ার সংকেত দিচ্ছে। সংঘাতের পঞ্চম বছরে পা রেখে ইউক্রেন ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ক্রেমলিনের সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে আসন্ন দিনগুলোতে ইউক্রেন সীমান্তে সামরিক কৌশল ও সম্ভাব্য কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।
এনএন/ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬







