বিশ্ববাজারে লাগামহীন সোনা, দেশে ভরিতে দাম পৌনে তিন লাখ ছুঁইছুঁই

ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর – মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বৃদ্ধি এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (Fed) কর্তৃক সুদের হার আরও বাড়ানোর আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দরে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য চুক্তির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমায় দৈনিক ভিত্তিতে সোনার দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৩০৪.৭১ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের (Gold Futures) দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৩৪০ ডলারে গিয়ে স্থির হয়।
বিশ্ববাজারের এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। বর্তমানে বাংলাদেশে ভ্যাটসহ সর্বোত্তম মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে রেকর্ড ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ: সোনা কি আদৌ ঘুরে দাঁড়াবে?
জেফ্রিজের মালিকানাধীন ‘ট্রাডু ডটকম’-এর জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবোরাস আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সমঝোতার আশায় তেলের দাম কমায় স্বর্ণের বাজারে সাময়িক কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে তা সত্ত্বেও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে মূল্যবান এই ধাতু দরপতনের পথেই হাঁটছে।
এর মূল কারণগুলো হলো:
1. ফেডের সুদের হার বৃদ্ধি ও ‘সুযোগ-ব্যয়’: মার্কিন ফেড সম্প্রতি তাদের নীতিগত সুদের হার ০.২৫ শতাংশ বাড়িয়েছে এবং সামনে এটি আরও বাড়ানোর জোরালো ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে।
2. অক্টোবর ও ডিসেম্বরের সমীকরণ: ‘সিএমই ফেডওয়াচ’ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা আগামী অক্টোবরে সুদের হার আরও এক দফা বাড়ার সম্ভাবনা ৭১ শতাংশ এবং ডিসেম্বরের মধ্যে তা বাড়ার সম্ভাবনা ৯৫ শতাংশ ধরে হিসেব কষছেন।
3. সুদমুক্ত সম্পদের চাপ: সাধারণত সোনাকে মূল্যস্ফীতি প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে গণ্য করা হলেও, ব্যাংকিং সুদের হার ও বন্ডের ইয়েল্ড বাড়লে বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিত মুনাফাযুক্ত সরকারি বন্ড বা ডিপোজিটের দিকে ঝোঁকেন। এতে সোনা ধরে রাখার ‘সুযোগ-ব্যয়’ (Opportunity Cost) বেড়ে যাওয়ায় এর সার্বিক চাহিদা কমে যায়।
এক নজরে বিশ্ববাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দরচিত্র
সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য কিমতি ধাতুর দামেও জোরালো পরিবর্তন দেখা গেছে:
রুপা (Silver): ১.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৪.৯০ ডলার।
প্ল্যাটিনাম (Platinum): ১.১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১,৭৬৭.৫৫ ডলার।
প্যালাডিয়াম (Palladium): ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১,২৬৫.০৩ ডলার।
দেশের বাজারে প্রতি ভরি সোনার বর্তমান রেট (ভ্যাটসহ)
আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও ডলার সমীকরণে দেশের বাজারে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নির্ধারিত স্থানীয় খুচরা দর নিচে তুলে ধরা হলো:
- ২২ ক্যারেট (সর্বোত্তম মান) ২,৩৪,৬২১ টাকা
- ২১ ক্যারেট ২,২৪,০৬৫ টাকা
- ১৮ ক্যারেট ১,৯২,৩৯৮ টাকা
- সনাতন পদ্ধতি ১,৫৭,১৭২ টাকা
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক জল কোনদিকে গড়ায় তার ওপর নির্ভর করবে সোনার আগামী দিনের গতিপথ। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিক সোনা কেনা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে স্বর্ণের বাজার পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
এনএন/ ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬







