বিশ্ববাজারে হঠাৎ ঘুরে দাঁড়াল তেলের দাম: ব্যারেল ১০০ ডলার পার!

ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর – চারদিন টানা পতনের পর হঠাৎ আবারও বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই (WTI)—উভয় ধরনের জ্বালানি তেলের দামই লাফিয়ে বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতি, সৌদি আরামকোর ওপর হামলা এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য আলোচনার ওপর বিশ্বজুড়ে চোখ রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের বর্তমান দরদাম
মঙ্গলবার ভোরেই আন্তর্জাতিক তেল বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়:
ব্রেন্ট ক্রুড: নভেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২২ সেন্ট (০.২২%) বেড়ে দাঁড়াল ১০০.৫৭ মার্কিন ডলারে।
ডব্লিউটিআই (WTI): অক্টোবরের ফিউচার চুক্তিতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫.৮০ ডলারে পৌঁছেছে। আর সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া নভেম্বরের ডব্লিউটিআই তেলের দাম ১৩ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২.৪৯ ডলার** হয়েছে।
বাংলাদেশি টাকায় প্রতি লিটার অপরিশোধিত তেলের দাম কত?
এক ব্যারেলে থাকে প্রায় ১৫৮.৯৯ লিটার। বর্তমানে ১ মার্কিন ডলার সমান প্রায় ১২৩ টাকা ধরে হিসাব করলে বিশ্ববাজারে প্রতি লিটার তেলের দাম দাঁড়ায়:
ব্রেন্ট ক্রুড: ব্যারেলপ্রতি ১০০.৫৭ ডলার = বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১২,৩৭০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি লিটার অপরিশোধিত তেলের দাম পড়ে প্রায় ৭৭.৮০ টাকা।
ডব্লিউটিআই (নভেম্বর): ব্যারেলপ্রতি ৯২.৪৯ ডলার = বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১১,৩৭৬ টাকা। সে হিসেবে লিটারপ্রতি দাম পড়ে প্রায় ৭১ টাকা।
(উল্লেখ্য, এটি শুধুই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম। পাম্পে আসার আগে পরিশোধনের খরচ, পরিবহন, কর ও শুল্ক যুক্ত হওয়ায় খুচরা বাজারের দাম ভিন্ন হয়।)
বিশ্ববাজারে আগুন জ্বলছে কেন? ৩টি মূল কারণ
১. যুক্তরাষ্ট্র-ইরান স্নায়যুদ্ধ ও জাতিসংঘের বৈঠক: চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মুখোমুখি হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এই কূটনৈতিক আলোচনার ফলের দিকে তাকিয়ে বিনিয়োগকারীরা আপাতত সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
২. সৌদি আরামকোয় হুথি হামলা ও হরমুজ প্রণালি সংঘাত: ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি সৌদি আরবের আরামকো তেল স্থাপনায় জোরালো হামলা চালিয়েছে। পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সৌদি আরামকো হরমুজ প্রণালি দিয়ে সুপারট্যাংকারে করে লাখ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। চীনও হুথিদের হামলা থামাতে ইরানকে চাপ দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
৩. লিবিয়ায় উৎপাদন ঘাটতি: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝে আফ্রিকার প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ লিবিয়ার শারারা তেলক্ষেত্রে হঠাৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক বরফ যদি না গলে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের এই অগ্নিমূল্য পরিস্থিতি আরও কিছুদিন চড়া থাকতে পারে।
এনএন/ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬







