ইরানের ওপর এবার স্থল অবরোধ আরোপের পথে যুক্তরাষ্ট্র: গঠন করা হচ্ছে ‘আয়রন গেট’ টাস্কফোর্স

ওয়াশিংটন, ০৭ নভেম্বর – ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদের অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ আরও বাড়াতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সামুদ্রিক বা নৌ-অবরোধের পর এবার ইরানের ওপর কঠোর স্থল অবরোধ আরোপ করতে চলেছে মার্কিন প্রশাসন। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
গঠিত হচ্ছে বিশেষ ‘আয়রন গেট’ টাস্কফোর্স
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর স্থলপথের অবরোধ কার্যকর ও সফল করতে মার্কিন সেনাবাহিনী একটি নতুন ও বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করতে যাচ্ছে। এই টাস্কফোর্সের মূল লক্ষ্য হবে—স্থলপথ এবং কাস্পিয়ান সাগরের মাধ্যমে ইরানি বাহিনীর আধুনিক সামরিক অস্ত্রশস্ত্র ও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত পণ্য সরবরাহ কঠোর হাতে প্রতিহত করা।
আজ শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কমান্ড ইউনিট ‘সেন্ট্রাল কমান্ড’ (CENTCOM) আনুষ্ঠানিকভাবে এই টাস্কফোর্সের আত্মপ্রকাশ বা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছে।
ফ্লোরিডার টাম্পাভিত্তিক এই বিশেষ টাস্কফোর্সের নামকরণ করা হয়েছে ‘আয়রন গেট’ (Iron Gate)। অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাচার ঠেকানোর পাশাপাশি দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্য এবং যেসব পণ্যের মাধ্যমে ইরান মোটা অঙ্কের অর্থ আয় করে থাকে, সেগুলোর ওপরও কড়া নজরদারি চালাবে এই টাস্কফোর্স। সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য সরকারি সংস্থাও এই কার্যক্রমে সমন্বিতভাবে অংশ নেবে।
নৌ-অবরোধে ইরানের বিশাল আর্থিক ক্ষতি
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি অনুযায়ী, গত জুনে যুদ্ধবিরতির পর ইরানের প্রধান নৌবন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র যে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছিল, তার ফলে তেহরান প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আর সেই নৌ-অবরোধের কার্যকারিতা বজায় রেখেই এবার স্থলপথেও অবরোধের ফাঁস আরও শক্ত করতে চাইছে ওয়াশিংটন।
সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালায়। এর পর টানা ৪০ দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও, তা বাস্তবে খুব একটা কার্যকর হয়নি। যদিও বর্তমানে দুই দেশের সরাসরি সামরিক সংঘাত বন্ধ রয়েছে, তবুও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিন দিন আরও তীব্র রূপ নিচ্ছে।
এনএন/ ০৭ নভেম্বর ২০২৬







