রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘে বড় পদক্ষেপ: ইউএনএইচসিআর প্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক

ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর – দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরণের চাপ সৃষ্টি করছে বাংলাদেশ। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্রান্ডির সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ম্যানহাটনের ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক’ হোটেলে এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং মর্যাদাপূর্ণ উপায়ে নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর মূল জোর দেওয়া হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবিক দিক বিবেচনা করে দীর্ঘ সময় ধরে প্রায় লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, এই মানবিক মানবিক সংকটের একমাত্র ও চূড়ান্ত সমাধান হলো রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা; এর অন্য কোনো বিকল্প নেই। শুধু ত্রাণ সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে বাস্তবায়ন করতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, এত বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিকতার যে অনন্য নজির স্থাপন করেছে, বৈঠকে তার ভূয়সী প্রশংসা করেন জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি। তিনি আশ্বাস দেন যে, রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের প্রয়োজনীয় মানবিক ও জীবন রক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি তাদেরকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পথ সুগম করতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করবে ইউএনএইচসিআর।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বমঞ্চের এই শীর্ষ সম্মেলনে বৈশ্বিক শরণার্থী সংস্থার সর্বোচ্চ প্রধানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক থমকে থাকা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে পুনরায় আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসবে।
এনএন/ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬







