পূজায় পদ্মার ইলিশ পেতে উন্মুখ ভারত: নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাংলাদেশের কাছে কলকাতার ব্যবসায়ীদের চিঠি

কলকাতা, ১২ সেপ্টেম্বর – আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশ ভারতে পাঠানোর ওপর থাকা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে তুলে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন ভারতীয় মাছ আমদানিকারকরা।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে কলকাতার ‘ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’। খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদসংস্থা।
চিঠির মূল বক্তব্য ও ব্যবসায়ীদের দাবি
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও জটিলতা: ১৯৯৬ সাল থেকে বেনাপোল ও আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে নিয়মিত ইলিশ আমদানি করা হলেও ২০১২ সালে বাংলাদেশ ইলিশ রপ্তানি নিষিদ্ধ করে।
বিশেষ অনুমতির সীমাবদ্ধতা: ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর দুর্গাপূজা উপলক্ষে কেবল ১ মাসের জন্য বিশেষ সুবিধায় নির্দিষ্ট পরিমাণ ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, যা বাণিজ্যিক চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত বলে দাবি আমদানিকারকদের।
সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন: দুই বাংলার অভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও রন্ধনশৈলীর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে চিঠিতে বলা হয়—পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় পদ্মার ইলিশের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। স্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে ভারতের জনগণ বাংলাদেশের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে।
এক নজরে ইলিশ কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
- আবেদনকারী ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, কলকাতা
- আবেদনের প্রাপক বাণিজ্যমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
- বর্তমান নিয়ম দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতি বছর সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ ছাড়পত্র দেওয়া হয়
- চাহিদার মূল কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসাম
কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য
পূজা মৌসুমে ভারতের বাজারে পদ্মার ইলিশের চাহিদা আকাশচুম্বী থাকে। তবে বাংলাদেশে দেশীয় বাজারে ইলিশের যোগান ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এই আবেদনের পর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নাকি পূজার আগের মতো আবারও সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ অনুমোদন দেবে—তা নিয়ে এখন দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলে জোর জল্পনা চলছে।
এনএন/ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬







