মধ্যপ্রাচ্য

যুদ্ধের প্রভাবে গ্যাস সংকট, যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আমদানির আলোচনা শুরু কাতারের

এলএনজি আমদানি

দোহা, ১২ সেপ্টেম্বর- ইরান যুদ্ধের কারণে কাতারের গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে দেশটি নিজেদের গ্রাহকদের চাহিদাও ঠিকভাবে পূরণ করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক কাতার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকারীদের কাছ থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাতে বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

আলোচনাটি খুবই গোপনীয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, চালু থাকা এবং নির্মাণাধীন রপ্তানি প্রকল্পগুলো থেকে গ্যাস পাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি। যুদ্ধ শুরুর পর এবারই প্রথম মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে থেকে নিজেদের গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর বিকল্প খুঁজছে কাতার।

সম্ভাব্য এসব চুক্তি থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ কীভাবে কাতারকে নিজেদের গ্রাহকদের চাহিদা পূরণে গ্যাসের বিকল্প উৎস খুঁজতে বাধ্য করছে।

একসময় বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ একাই করত কাতার। তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে গ্যাসবাহী ট্যাংকার চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় দেশটির সরবরাহ এখন প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও কাতারএনার্জি কোনো সাড়া দেয়নি।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে কাতার তাদের রাস লাফান এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্র থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ করার বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিল। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই স্থাপনা সংঘাত শুরুর প্রথম কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি পুরোপুরি মেরামত করতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিগগিরই যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইরানও সংঘাত আরও বাড়ানোর জন্য প্রস্তুত। শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এই যুদ্ধ ২০২৯ সাল পর্যন্ত চলতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের এই আশঙ্কাই হয়তো কাতারকে বাণিজ্যের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে বাধ্য করছে।

কাতারের হাতে এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহ পাওয়ার কিছু সুযোগ রয়েছে। টেক্সাসে অবস্থিত গোল্ডেন পাস এলএনজি কারখানার অন্যতম মালিক কাতার। কারখানাটি গত এপ্রিলে রপ্তানি শুরু করেছে এবং ধীরে ধীরে উৎপাদনও বাড়াচ্ছে।

এ ছাড়া কাতারএনার্জির ট্রেডিং ইউনিটের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতাও ধারাবাহিকভাবে বাড়াচ্ছে পারস্য উপসাগরীয় দেশটি। এই ইউনিটটি মূলত স্বল্পমেয়াদি ব্যবসার ওপর নির্ভর করে।

এস এম/ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button
🌐 Read in Your Language