জাতীয়

আইএমএফের কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ও বাংলাদেশের জন্য বড় সতর্কবার্তা

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর – আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচিতে থাকা দেশগুলোর ওপর আগের চেয়ে প্রায় চার গুণ বেশি সরকারি ব্যয় কমানো বা ‘কৃচ্ছ্রসাধন’ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে! আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফামের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির দাবি, এই ধরনের নির্মম বাজেট ছাঁটাইয়ের কারণে ঋণগ্রহীতা দেশগুলোর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসনের মতো মৌলিক সামাজিক সেবা চরম হুমকির মুখে পড়ছে, যা নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও ঝুঁকিতে ফেলছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতির মাধ্যমে এই আশঙ্কাজনক সতর্কবার্তা দিয়েছে অক্সফাম।

চার গুণ বেড়েছে বাজেট ছাঁটাইয়ের চাপ

  • অক্সফামের সংগৃহীত ডেটা বলছে, বিগত এক দশকে আইএমএফের অর্থনৈতিক শর্ত দিন দিন আরও কঠোর থেকে কঠোরতর হয়েছে:
  • বিগত বছরের চিত্র (২০১২-২০১৭): আইএমএফের নির্ধারিত কৃচ্ছ্রসাধনের বার্ষিক মধ্যম হার ছিল জিডিপির ০.২১ শতাংশ।
  • বর্তমান চিত্র (২০১৮-২০২৫): এই হার লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে জিডিপির ০.৮৫ শতাংশে।

‘বিষপান’-এর সাথে তুলনা: ধাপে ধাপে সংস্কার না করে শুরুতেই বিশাল চাপ তৈরি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে অক্সফামের জ্যেষ্ঠ নীতি উপদেষ্টা নাবিল আবদো বলেন, “শুরুতেই কৃচ্ছ্রসাধনের চাপ দেওয়া এমন, যেন কোনো দেশকে একবারে পুরো বোতল বিষ খেতে বলা হচ্ছে—যে বিষ অল্প মাত্রাতেও মারাত্মক ক্ষতিকর।”

আইএমএফের পাল্টা যুক্তি

অক্সফামের এই গুরুতর অভিযোগ অবশ্য পুরোপুরি স্বীকার করেনি আইএমএফ। ওয়াশিংটনে সংস্থাটির মুখপাত্র জুলি কোজাক জানান, তাদের প্রতিটি ঋণ কর্মসূচীতেই ‘সোশ্যাল স্পেন্ডিং ফ্লোর’ বা সামাজিক ব্যয়ের সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারিত থাকে। আইএমএফ কেবল খরচ কমানোর তাগিদ দিচ্ছে না, বরং দেশগুলো কীভাবে নিজস্ব রাজস্ব বাড়িয়ে সেবাগুলো টিকিয়ে রাখবে, সেদিকেও নজর দিচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য কেন এই সতর্কবার্তা?

  • অক্সফামের এই আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনীতির প্রেক্ষাপটেও দারুণ প্রাসঙ্গিক ও আশঙ্কাজনক:
  • ঋণ ও সংস্কার কর্মসূচি: বাংলাদেশ বর্তমানে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের আইএমএফ ঋণ ও সংস্কার কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।
  • ভর্তুকি প্রত্যাহার ও রাজস্ব বৃদ্ধি: আইএমএফের শর্তানুসারে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ এবং রাজস্ব আদায় বাড়াতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।
  • সামাজিক খাতের সুরক্ষা: ২০২৫ ও ২০২৬ সালের পর্যালোচনায় উন্নয়ন বা মূলধনি খরচ কমানোর নির্দেশ থাকলেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার ব্যয়ের আওতায় রাখার কথা বলা হয়েছে।

তবে আইএমএফের কড়া শর্ত পূরণ করতে গিয়ে বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং সরকারি খরচ ছাঁটাইয়ের প্রভাব যাতে বাংলাদেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষায় আঘাত না হানে—সেটাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

এনএন/ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Back to top button