৩ বছর ধরে নেই খোঁজ: লিবিয়া যাওয়ার পথে যশোরের ৫ যুবক নিখোঁজ, নিঃস্ব ৫ পরিবার

যশোর, ০৯ সেপ্টেম্বর – উন্নত জীবনের স্বপ্ন, পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো আর একটু সচ্ছলতার আসায় জমিজমা বিক্রি কিংবা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ভাগ্য পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে পা বাড়িয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেই স্বপ্নই এখন রূপ নিয়েছে এক অনন্ত অমাবস্যায়। লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে যশোরের শার্শার পাঁচ যুবক গত ৩ বছর ধরে সম্পূর্ণ নিখোঁজ। সন্তান বা স্বজনের কোনো সন্ধান না পেয়ে নিঃস্ব পরিবারগুলো এখন একদিকে ঋণের বোঝা, অন্যদিকে স্বজন হারানোর গুমোট কান্নায় দিন কাটাচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, শার্শার ধান্যখোলা গ্রামের মফিজুর রহমানের ছেলে দালাল সোহাগ তাদের লিবিয়ায় ভালো চাকরির প্রলোভন দেখায়। এর বিনিময়ে প্রতিটি পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া হয় ৯ থেকে ১২ লাখ টাকা।
নিখোঁজ হওয়া পাঁচ যুবক হলেন:
ইয়াসিন আরাফাত (পিতা: আবু মোছা)
আনোয়ার হোসেন (পিতা: মশিয়ার)
রানা হোসেন (পিতা: আরশাদ)
শাহিন আলম (পিতা: আব্দুল)
মেহেদী হাসান (পিতা: হাসেম)
টাকা পরিশোধের পর তাদের লিবিয়ার উদ্দেশে পাঠানো হলেও গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই স্বজনদের সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নিখোঁজ হওয়ার প্রথম দিকে দালাল সোহাগ যুবকদের দেশে ফেরানো এবং টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। কিন্তু তিন বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো সুরাহা মেলেনি; উল্টো এখন পরিবারগুলোর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন দালাল সোহাগ।
দালাল সোহাগের বাবা-মা অবশ্য ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাদের ছেলে বর্তমানে লিবিয়ায় অবস্থান করছেন এবং তার সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই।
নিখোঁজ শাহিন আলমের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, সন্তানকে বিদেশে পাঠাতে সহায় সম্বল বিক্রি করে এবং ঋণ নিয়ে টাকা তুলে দিয়েছিলেন। এখন সন্তানের কোনো সন্ধান নেই, অন্যদিকে পাওনাদারদের ঋণের চাপে দিশেহারা তারা। স্থানীয়ভাবে সালিশ করে কোনো ফল না পাওয়ায় তারা আইনি প্রক্রিয়ার পথ ধরেছেন।
মানবাধিকার কর্মী খায়রুল ইসলাম জানান, শুধু যশোরের এই পাঁচ যুবকই নন; নড়াইল, বাগেরহাট ও ফরিদপুরের একাধিক যুবকও একই উপায়ে লিবিয়া যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়েছেন। এটি একটি আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের কাজ হতে পারে।
শার্শা থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশিস সরকার জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এনএন/ ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬







