আরব দেশগুলোকে ইরানের চরম হুঁশিয়ারি, মার্কিন ঘাঁটি সরানোর নির্দেশ

তেহরান, ২ সেপ্টেম্বর – আরব দেশগুলোর ভূখণ্ড থেকে মার্কিন বাহিনীকে সরিয়ে দিতে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মার্কিন সেনাদের তাড়িয়ে না দিলে ওইসব দেশের ওপর বিধ্বংসী সামরিক হামলা চালানো হবে। ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই হুমকি দেন আইআরজিসির রাজনৈতিক উপ প্রধান জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি।
জেনারেল জাভানি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর উচিত হবে দ্রুত তাদের মাটি থেকে মার্কিন সেনাদের বিদায় করে দেওয়া এবং ঘাঁটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। বিশেষ করে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি সতর্ক করেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো দেশের ভূমি ব্যবহার করতে দিলে তেহরান চরম প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এই হুঁশিয়ারির পরেই জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি ছিল মার্কিন বাহিনীর পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য সর্বাত্মক যুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতির বহিঃপ্রকাশ। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ ইসলামি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ওয়াশিংটন যে কূটনীতিতে বিশ্বাসী নয় সেটি ইরান ইতিমধ্যে অনুধাবন করেছে।
এই কারণে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি বৃহত্তর যুদ্ধের সময় ইসরায়েলে আঘাত হানার পথ সুগম রাখা। ইরানের মতে, আগের যুদ্ধগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
এদিকে ইরানের কুহেস্তাকে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন মোহাম্মদ ইসলামি। তিনি এই ঘটনাকে ইরাক ও আফগানিস্তানে করা মার্কিন নৃশংসতার সঙ্গে তুলনা করে এর বিচার দাবি করেন।
এস এম/ ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬







